খুব অল্প সময়েই হাঁটতে শিখবে আপনার সন্তান, জেনে নিন সেই সহজ ও সঠিক পদ্ধতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: শিশুর জন্মের পর থেকেই কিন্তু বাবা মায়েদের মাথায় নানান ধরনের চিন্তা ঘোরাফেরা করতে থাকে। প্রথমত শিশুকে কিভাবে মানুষ করা হবে থেকে শুরু করে কিভাবে শিশু হাঁটতে শিখবে সবকিছুই কিন্তু লক্ষ্য রাখার মতন বিষয়। বহু বাচ্চা রয়েছে যারা কিন্তু বেশি দেরিতে হাঁটতে শেখে। অনেকেই মনে করে থাকেন যে এটা জিনগত কারণের জন্য হয়। তবে পাঠকদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি যে এই পুরো ব্যাপারটাই কিন্তু হয়ে থাকে চেষ্টার উপর নির্ভর করে।

অর্থাৎ আপনি যদি আপনার শিশুকে হাঁটতে শেখার জন্য ঠিক ভাবে চেষ্টা না করেন তাহলে কিন্তু সময় সেখানেই পিছিয়ে যাবে। তবে অভিভাবকদের এই চেষ্টা করার জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম পালন করতে হয়। ‌ আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা সেই সমস্ত নিয়মাবলী নিয়েই আলোচনা করতে চলেছি। যদি আপনার বাড়িতেও কোন সদ্যজাত থাকে তাহলে কিন্তু ভুল করেও আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আপনারা মিস করবেন না।

শিশুর দ্রুত হাঁটতে শেখার জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি টিপস:

১)বডি মাসাজ:

নিয়মিত আপনাকে কিন্তু শিশুর হাত-পা আর বডি মাসাজ করতে হবে। এই ব্যাপারটা ভীষণ রকমের প্রয়োজন। মাসাজ করলে লিম্ব মাংসপেশী নিজের কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি হবে। পাশাপাশি শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং তার হাড় মজবুত হয়ে উঠবে।

২) কোল থেকে নামিয়ে দিন:

অনেক অভিভাবকেরাই মনে করে থাকেন শিশুকে কোলে রাখলে বোধ হয় বেশি ভালো হবে। তবে একথা কিন্তু একেবারেই ভুল। শিশুকে দীর্ঘ সময় যদি কোলে রাখা হয় তাহলে কিন্তু তার মধ্যে অলসতা দেখা দেয়। সুতরাং শিশুকে সময় মতন কোল থেকে নামিয়ে দিন এবং তাদের হামাগুড়ি দিতে দিন যাতে ওরা পায়ের কাজ সঠিক সময়ে ভালো করে বুঝতে পারে।

৩) শেখানোর চেষ্টা:

মোটামুটি সাত মাস হলেই কিন্তু শিশুকে পায়ের কাজ বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। নিজে নিজেই হাঁটা শিখে যাবে এই ধারণা তৈরি করে রাখলে কিন্তু অনেকটাই সময় লেগে যায়। সুতরাং এই বদ্ধ ধারণার বাইরে বেরিয়ে যত দ্রুত শিশুকে আপনারা ধরে ধরে হাঁটা শেখাবেন, তত তার মাসল মেমোরি তৈরি হবে। এটা কিন্তু ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৪)খালি পা:

শিশুকে পায়ের নিচের মাটির প্রকৃতি বোঝাতে হবে আপনাদের। সারাক্ষণ যদি তাকে জুতো পায় হাঁটা শেখানো হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু উঁচু-নিচু পথ বা খানাখন্দ তার অবচেতন মনকে বাধা দিতে পারে। কিন্তু যদি শিশু খালি পায় হাটে তাহলে কিন্তু তার ভারসাম্য সহজেই তৈরি হয়ে যাবে এবং সে দ্রুত হাঁটা শিখবে।

৫) খেলনার প্রয়োগ:

অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় বাচ্চারা কিন্তু শুধু কথায় হাঁটাচলা করতে বা কোন কাজ করতে চায় না। তাই ধরুন আপনারা এমন একটা কাজ করলেন যে সামনে কোন একটা খেলনা রেখে দিলেন এবং শিশু সেখানে হেঁটে গেলেই ওই খেলনাটা পেয়ে যাবে এই ব্যবস্থা করলেন। দেখবেন তার মধ্যে কিন্তু একটা আগ্রহ তৈরি হয়ে যাবে।

৬) হাঁটার ছন্দ এবং দেখে শেখার উপায় :

কোন কাজ যদি শিশু সহজে করতে না পারে সেক্ষেত্রে কিন্তু তার মগজে একটি ছন্দ তৈরি হয় যার সাহায্যে তারা সেই কাজটিকে সম্পূর্ণ করে থাকে। এই বিষয়ে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি শিশু যাতে অন্য বাচ্চাদের বা ধরুন আপনাকে দেখেই কিভাবে হাঁটতে হয় বসতে হয় বা চলাফেরা করতে হয় এগুলো শিখতে পারে সেই দিকেও কিন্তু আপনাদেরকে নজর রাখতে হবে।

Back to top button