“এতো বড়ো হয়ে গেছিস যে স্ক্রিপ্ট চাইছিস!”, পরিচালকের অপমান থেকে স্টুডিওর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা, শুভশ্রীর বিবর্তনের গল্প শুনলে হবেন অবাক!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- বর্তমান সময়কার টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে যে সমস্ত অভিনেত্রীরা একচ্ছত্র রাজত্ব করে চলেছেন তাদের মধ্যে আমরা প্রথমেই বলতে পারি অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর কথা। ‘ধর্মযুদ্ধ’, ‘হাবজি গাবজি’, ‘বিসমিল্লা’— যে দিকেই চোখ যায়, এখন শুধুই তিনি। এরপর সম্প্রতি পুজোতেই মুক্তি পেতে চলেছে তার পরবর্তী চলচ্চিত্র বৌদি ক্যান্টিন। সব মিলিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও বর্তমানে একেবারে ব্যস্ত জীবন কাটছে নায়িকার। মা হওয়ার পরে দীর্ঘ বছরখানেক সময় অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন এই নায়িকা। তবে বিগত কয়েক মাসে আবারও স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন তিনি।

বড় পর্দা ছেড়ে এবার তিনি ওটিটি প্লাটফর্মেও পা রাখতে চলেছেন। দেবালয় ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় হৈচৈ প্লাটফর্ম এর একটি জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে অভিনয় করছেন নায়িকা। সম্প্রতি এইসব কিছুর মাঝেই এক জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন- শুভশ্রী গাঙ্গুলী। সেখানেই নিজের জীবনের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেন এই নায়িকা। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা শুভশ্রীর এই অজানা কিছু দিক নিয়েই আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চলেছি। যদি আপনাদেরও এই অভিনেত্রীকে ভালো লেগে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কিন্তু প্রতিবেদনটি লাইক,কমেন্ট আর শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না।

প্রসঙ্গত সাক্ষাৎকারের শুরুতেই শুভশ্রীকে উদ্দেশ্য করে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘হাতে প্রচুর কাজ, ছবি সই করার আগে কী মাথায় রাখেন এখন?’ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নায়িকা জানান, “আমি দর্শক হিসাবে গল্প শুনি। এক লাইন শুনে যদি মনে হয় আমার এই কাজটা করা উচিত, তখনই রাজি হয়ে যাই। তাতে চরিত্রের দৈর্ঘ্য বড় হোক বা ছোট। তবে এক লাইন শোনার পর যদি মনে হয় পুরো চিত্রনাট্যটা শুনতে হবে, তা হলে গন্ডগোল আছে!” শুভশ্রী এও জানান যে, “প্রথমের দিকে এই ভাবে কাজ হত না। আমরা কখনও চিত্রনাট্যও পাইনি হাতে। শুধু বলে দেওয়া হত তুমি এই ছবিটা করছ।

ফ্লোরে গিয়ে বলা হত, এই সংলাপ বলে দাও ব্যস। চিত্রনাট্য আগে থেকে পড়ার ব্যাপার ছিল না। আমি তখন দর্শক মহলে পরিচিত নাম। এক বার এক পরিচালকের কাছে ছবির আগে চিত্রনাট্য চেয়েছিলাম। তখন উনি বলেছিলেন, বাবা! এত বড় হয়ে গিয়েছিস যে স্ক্রিপ্ট চাইছিস। আগে অনেক অসুবিধার মধ্যে দিয়ে আমাদের কাজ করতে হত। এনটিওয়ান স্টুডিয়োর বাইরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম। দারোয়ানের কাছে এন্ট্রি করে ঢুকতে হত। নতুন প্রজন্মের কাউকে এ সবের মুখোমুখি হতে হয় বলে আমার মনে হয় না”। এরপর যখন শুভশ্রী কে প্রশ্ন করা হয় যে অন্য কোন নায়িকাকে দেখা যাচ্ছে না কেন চারদিকে শুধু তারই ছবি?

তখন শুভশ্রী উত্তর, “অবশ্যই খুবই ভাল লাগছে। ভগবানের আশীর্বাদে যেন এই ভাবেই সততার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি। আমায় বিভিন্ন রকম চরিত্রে পরিচালক, প্রযোজকরা ভাবছেন তা অবশ্যই আনন্দের।” বেশ কিছুদিন ধরে এই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধুমাত্র শুভশ্রীকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রশ্নকর্তা অভিনেত্রীকে বলেন বেশ কিছুদিন ধরেই তো তিনি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে রয়েছেন। এই প্রসঙ্গে শুভশ্রীর বক্তব্য, “আমি সব সময় আমার একশো শতাংশ দিয়ে কাজ করে এসেছি। তবে অবশ্যই ‘পরিণীতা’ ছবির মাধ্যমে এক অন্য শুভশ্রীর জন্ম হয়। সেই পরিচালক বুঝেছিলেন, আমিও অভিনয় করতে পারি। তার পরেই বাকিরা গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।

এই ব্রেকটা আমি আগেই পেতে পারতাম। যদি মানুষ গতে বাঁধা চিন্তাভাবনায় আটকে না থাকত”। এরপর শুভশ্রীকে আরও একটি প্রশ্ন করা হয়ে যায় উত্তর অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই দেন তিনি। সাংবাদিক নায়িকাকে জিজ্ঞেস করেন, “কখনও মনে হয়, ভাগ্যিস ‘পরিণীতা’-কে রাজ আমার জীবনে এনেছিল? শুভশ্রীর অকপট উত্তর, “মাঠে নামার আগে তো বুঝতে পারব না পিচটা কেমন? আমার বিপরীতে যে আছে, তার আজ মুড কেমন। মাঠে নামার সুযোগটা তো পেতে হবে। সেই দ্বিধাটাই মাঝেমাঝে কাজ করত। সেই আত্মবিশ্বাস জোগায় এক জন কোচ। বোঝাবে, তুমি পারবে। মাঠে নামলে তুমি ছক্কা মারবে।  সেই কোচের ভূমিকাই পালন করেছে রাজ”‌।

প্রসঙ্গত পূজোতে মুক্তি পেতে চলেছে শুভশ্রী অভিনীত বৌদি ক্যান্টিন চলচ্চিত্রটি। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান,“আমার ছবিটাই আগে দেখতে হবে, এমন ভাবনা আমার নেই। বহু বছর ধরে দেখছি, পুজোর সময় ছবি মুক্তি পেলে ভালই ব্যবসা করে। আমার ধারণা, সেই বিশ্বাস থেকেই প্রযোজক ভেবেছেন পুজোর সময় এতগুলো ছবির মাঝে ভাল ব্যবসা করবে আমাদের ছবিও”। সবশেষে চলে আসে শুভশ্রী অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের কথা। দিন কয়েক আগেই এই ছবির পোস্টার রিলিজ করা হয়েছে। সেখানে শুভশ্রীর লুক দেখে রীতিমত অবাক হয়ে গিয়েছেন নেটিজনরা।

এক ৭০-৭৫ বয়সী বৃদ্ধা ইন্দুবালার চরিত্রে যেভাবে নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছেন শুভশ্রী তাতে নিঃসন্দেহে তিনি যে একজন দারুন অভিনেত্রী তা হয়তো আর আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না কখনোই। এই ওয়েব সিরিজ প্রসঙ্গে শুভশ্রী জানান, “ওই মেক আপ করতে এবং তুলতে মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে। সোমনাথ কুণ্ডু অসাধারণ। তবে শুধু মেকআপ করলে তো হবে না। অভিনয়টা তো করতে হবে। আমার মাথায় একটা জিনিস কাজ করে, রেডি হয়ে প্রথম যখন ফ্লোরে পা রাখব, তা দেখে প্রথম যে প্রতিক্রিয়াটা আমি পাব, সেটাই নির্ণয় করে দেয় কী হতে চলেছে। আমায় দেখে সবাই থমকে গিয়েছিলেন”।

Back to top button