শিশুদের মালিশের জন্য সবথেকে ভালো তেল কোনটি? জানুন কোন তেলে উপকারী গুন সবথেকে বেশি!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- প্রত্যেক বাবা-মায়েরাই চান তাদের বাচ্চার তোক সবথেকে সুন্দর আর স্বাস্থ্যবান হোক। তাই আপনাদের বাচ্চাকে কিন্তু তেল দিয়ে মালিশ অবশ্যই করতে হবে। ছোট বাচ্চাদের তেল মালিশ করলে অনেক সুবিধা হয়। যেমন তাদের শরীরের হাড় মজবুত হয়, শিশু মোটাসোটা হয় এবং তাদের ত্বক কোমল আর মসৃণ হয়ে ওঠে। এমনকি এটা হয়তো অনেকেই জানেন না যে বাচ্চাকে নিয়মিত তেল মালিশ করলে কিন্তু তাদের গায়ের রংও ছোট থেকে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

পাশাপাশি বাচ্চার যদি সর্দি কাশি জনিত কোন সমস্যা থাকে সেটাও কিন্তু ঠিক হয়ে যায়। আর সব থেকে বড় কথা শিশুদের তেল দিয়ে মালিশ করলে কিন্তু বাচ্চার খুব ভালো ঘুম হবে এবং বাচ্চা আপনাকে জ্বালাতন করবে না। তবে এখানে সব থেকে বড় প্রশ্ন এটাই যে বাচ্চাকে মালিশ করার জন্য কোন তেল সবথেকে বেশি ভালো? বা আপনার বাচ্চাকে আপনি কোন তেল দিয়ে মালিশ করতে পারেন? শিশুদের ত্বক কিন্তু সাধারনত খুব কোমল হয়ে থাকে। প্রত্যেক শিশুর শরীরের সমস্যাও কিন্তু আলাদা ধরনের হয়। সব তেল বা সব জিনিস কিন্তু প্রত্যেক বাচ্চার জন্য সমানভাবে ভালো হতে পারে না।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদেরকে জানাতে চলেছি বাচ্চাদের জন্য সবথেকে ভালো পাঁচটি তেলের কথা। এছাড়াও ওই তেল গুলির উপকারিতাও আমরা আপনাদের জানাবো। প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনারা নিজেই নির্ধারণ করতে পারবেন, আপনার শিশুর কোমল ত্বকের জন্য কোন তেল সব থেকে বেশি ভালো। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

১) সরষের তেল:

বহু পুরনো যুগ ধরেই মানুষের মধ্যে কিন্তু সর্ষের তেলের ব্যবহার চলে আসছে। আমাদের মা ঠাকুমারাও কিন্তু এই তেল ব্যবহার করেই আমাদের মালিশ করেছেন। তাই অবশ্যই এই তেলের কোন না কোন উপকারিতা বা গুণাগুণ রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রথমেই জানিয়ে রাখি যে সমস্ত বাচ্চাদের মাথায় চুল কম থাকে তাদেরকে সরষের তেল মাখানো কিন্তু খুবই ভালো। মাথার সামনের দিকে যে নরম অংশটি থাকে যাকে আমরা তালু বলে থাকি সেটা মজবুত করার জন্য সরষের তেলের প্রয়োগ করা সব থেকে ভালো।

এছাড়াও এই তেলের কিন্তু প্রচুর পরিমাণে উপকারিতা রয়েছে। তবে যদি আপনি আপনার বেবিকে সরষের তেল মাখাতে চান তবে কিন্তু বিশেষ কিছু জিনিস আপনাকে অবশ্যই নজরে রাখতে হবে। সরষের তেল শীতকালে আর বর্ষাকালে ত্বকে লাগানো ভালো, কিন্তু যদি এই তেল আপনি গরমকালে লাগান তাহলে কিন্তু আপনার বাচ্চার গায়ে ঘামাচি হয়ে যেতে পারে। বাজারে কিন্তু অনেক ভেজালযুক্ত সর্ষের তেল পাওয়া যায়। কিন্তু আপনাকে বাচ্চা শরীরে মালিশ করার জন্য কেবলমাত্র খাঁটি সরষের তেল বা ঘানি সরষের তেল ই ব্যবহার করতে হবে।

২)অলিভ অয়েল:

এবারে যে তেলটির আমরা কথা বলবো সেটা কিন্তু বহু বড় বড় দেশেই বাচ্চাদের শরীরে মালিশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অলিভ অয়েল মাখালে কিন্তু বাচ্চার শরীরে কোন ইনফেকশন হয় না এবং সাধারণত সব বাচ্চাদের শরীরেই এটা মানিয়ে যায়।

অনেকেই মনে করেন যে অলিভ অয়েল মাখালে বাচ্চাদের স্কিন কালো হয়ে যাবে তবে আসলে তা নয়। এই তেল কিন্তু বাচ্চার শরীরে বহু ভাল রকমের কাজ করে থাকে। তবে অবশ্যই আপনারা বাচ্চার শরীরে এটি মাখানোর আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন।

৩) ডাবর লাল তেল:

এটি একটি আয়ুর্বেদিক তেল হওয়ার জন্য কিন্তু এর কোন রকমেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। যেসব বাচ্চাদের হাড় একটু দুর্বল হয়, তাড়াতাড়ি বসতে পারেনা তাদের জন্য ডাবর লাল তেল খুবই উপকারী। এই তেল দিয়ে মালিশ করলে শিশুর হাড় দ্বিগুণ কার্যকারিতার সাথে মজবুত হয়ে থাকে।

শিশুর হাড় মজবুত করতে বা শিশুকে শক্তিশালী করতে আপনারা কিন্তু খুব সহজেই এই তেলের ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনার বাচ্চার বয়স তিন মাস হবার পরে এই তেল আপনারা ব্যবহার করবেন। না হলে আপনার বাচ্চার স্কিন কালার কিন্তু কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

৪) বাদাম তেল:

অন্যান্য তেলের তুলনায় বাদাম তেল এর মধ্যে ভিটামিন ই এর পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটা কিন্তু শুধু শিশুদের জন্য নয় বড়দের জন্যেও মালিশের খুবই উপকারী একটি তেল। এই তেল দিয়ে মালিশ করলে বাচ্চার ত্বকের পাশাপাশি হাড় খুবই মজবুত হয়।

৫) হিমালয়া বেবি মাসাজ অয়েল:

এই তেলের মধ্যে কিন্তু খুবই হালকা উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে যার ধরুন এটা একেবারেই চিটচিটে হয় না। প্রত্যেকটি ঋতুতেই আপনারা বাচ্চাদের সহজে এই তেল দিয়ে মাসাজ করতে পারেন। এই তেল ব্যবহার করলে আপনার বাচ্চার ত্বক বহু সময় পর্যন্ত হাইড্রেট থাকবে।

এছাড়াও হিমালয়ের এই তেলটি বাচ্চার শরীরে খুব বেশি কিন্তু ঘষতে হয় না। অনায়াসেই হালকা মাসাজের সাথে সাথে এই তেলটি বেবির শরীরের মধ্যে চলে যায়। তাই অবশ্যই আপনারা নিজেদের শিশুর ত্বকের জন্য এই তেলটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

Back to top button