রোজ রোজ দুপুরে কি খাবেন? খুব সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ডিম ও মুসুর ডাল দিয়ে বানান এই দুর্দান্ত স্বাদের রেসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রত্যেকদিন বাড়িতে মাছ বা মাংস নিয়ে আসা বা রান্না করা হয়তো আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তবে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যারা কিন্তু আমিষ কোন রেসিপি না থাকলে সহজে খাবার খেতে পারেন না। যদি আপনি নিজে বা আপনার বাড়ির সদস্য এই সমস্যার ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র আপনার জন্য।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করতে চলেছি মাছ আর মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম এবং মসুর ডাল দিয়ে তৈরি এমন একটি সুস্বাদু রেসিপি যা বাড়িতে বানালে সবাই চেটেপুটে খেয়ে নেবে। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই রেসিপিটি শুরু করা যাক এবং জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এটা সহজ উপায়ে আপনারা তৈরি করতে পারবেন।

ডিম ও মসুর ডাল দিয়ে তৈরি বিশেষ রেসিপি:

১) এই রেসিপিটি করার শুরুতেই আপনাদের এক কাপ পরিমাণ মসুর ডাল নিয়ে নিতে হবে। তারপর ভালো করে ধুয়ে মোটামুটি ঘন্টা দুয়েক সময় এটাকে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর জলটাকে ছেঁকে নিয়ে কিছুক্ষণ পরে ভালো করে মিক্সিতে ডাল বেটে নিন। অবশ্যই খেয়াল করবেন ডাল বাটার সময় যেন এর মধ্যে খুব বেশি পরিমাণে জল না থাকে। তারপর এর মধ্যে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে তিনটে ডিম।

এছাড়াও এর মধ্যে দিতে হবে দুটি বড় সাইজের পেঁয়াজ কুচি, দুটো কাঁচা লঙ্কা কুচি, এক চা চামচ আদা রসুন বাটা, স্বাদমতো লবণ, সামান্য পরিমাণে হলুদ গুঁড়ো, সামান্য পরিমাণে গরম মশলার গুঁড়ো। গরম মসলাটা দিলে খেতে ভালো হবে পাশাপাশি ডিমের যে কাঁচা গন্ধ থাকে সেটাও চলে যাবে। এবার ভালো করে এটাকে আপনাদের মিশিয়ে নিতে হবে।

২) এবার একটা ফ্রাইং প্যান নিয়ে তাতে এক টেবিল চামচ পরিমাণ তেল গরম করে নিতে হবে। তারপর সম্পূর্ণ মিশ্রণটিকে প্যানের মধ্যে ঢেলে দিন এবং গ্যাসের আঁচ মিডিয়ামে রাখুন। মিডিয়াম টু লো ফ্লেমে আপনাদের কিন্তু প্যান ঢেকে দিতে হবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কিন্তু আপনারা দেখবেন এটা জমাট বেঁধে গেছে। আরো একবার উল্টে এটাকে আপনাকে অন্য পিঠটাও কিন্তু জমাট বাঁধিয়ে নিতে হবে।

খুব বেশিক্ষণ কিন্তু সময় লাগবে না মোটামুটি ৭ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যেই এটা ভালোভাবে ভাজা হয়ে যায়। গরম থাকা অবস্থায় কিন্তু এটাকে মোটেও কাটবেন না। নামিয়ে ঠান্ডা করে নেবেন। এবার অন্যদিকে একটা কড়াইতে আপনাদের চার টেবিল চামচ পরিমাণ রান্নার তেল গরম করে নিতে হবে। তেল গরম হয়ে গেলে একটা বড় সাইজের আলু ডুমোডুমো করে কেটে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। এবার আলুটাকে একটু নুন আর হলুদ দিয়ে লাল লাল করে ভেজে নিতে হবে। চাইলে কিন্তু আলু ছাড়াও এই রেসিপিটা তৈরি করতে পারেন।

৩) আলু ভাজা হয়ে গেলে তুলে ফেলুন। ওই তেলের মধ্যেই একটা তেজপাতা,একটা শুকনো লঙ্কা , দুটো ছোট এলাচ, এক টুকরো দারচিনি আর সামান্য গোটা জিরে দিয়ে দিন। একেবারে লো ফ্লেমে আপনাদের ফোড়ন নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। তারপর এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে পেঁয়াজ কুচি। মোটামুটি তিন থেকে চার মিনিট সময় নিয়ে পেঁয়াজ ভেজে নিন। তারপর এর মধ্যে আপনাদের আদা রসুন টমেটো আর কাঁচালঙ্কার যে পেস্ট তৈরি করে রেখেছিলেন সেটাকে দিয়ে দিতে হবে।

এই পেস্ট তৈরি করার জন্য আদা, রসুন, পেঁয়াজ কাঁচালঙ্কা আর একটি টমেটো ভালো করে বেটে নিতে হবে। ভালো করে মিশিয়ে নেওয়ার পরে আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে হাফ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো,হাফ চা চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, হাফ চা চামচ জিরা গুঁড়ো ও ধনে গুঁড়ো, হাফ চামচ চিনি আর স্বাদমতো লবণ। তারপর সামান্য পরিমাণে জল দিয়ে আপনাদের সম্পূর্ণ মসলা ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। অবশ্যই সময় নিয়ে কষাবেন যাতে কাঁচা গন্ধ না থাকে। তারপর ভাজা আলুগুলিকে এর মধ্যে দিয়ে আপনাদের কষিয়ে নিতে হবে আরো কিছুক্ষন।

৪) অন্যদিকে প্রথমে যে ডিমের পুরটি তৈরি করেছিলেন ওই ভাজা অংশটি কে চাকু দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। কাটা হয়ে গেলে কড়াইতে হাফ কাপ পরিমাণ গরম জল যোগ করে কিছুক্ষণ সম্পূর্ণ মসলাসহ আলু ফুটিয়ে তার মধ্যে এই ভাজা টুকরোগুলোকে দিয়ে দিতে হবে।

অন্ততপক্ষে আরো পাঁচ থেকে ছয় মিনিট রান্নাটিকে ঢাকা দিয়ে ফুটিয়ে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে ফেলুন। গরম গরম ভাতের সাথে আপনারা এই রেসিপিটি পরিবেশন করতে পারেন। খেতে কেমন লাগলো তা অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না।

Back to top button