আজকের গল্প :- মহিলা.. থুরি ‘মেয়েছেলেদের’ সম্মান করুন!

কলমে অর্পিতা সরকার– বুঝলেন ম্যাডাম, আমি মেয়েছেলেদের হেভি সম্মান করি। কত কাজ করে তারা! ড্রাইভারের বলা কথাটা মারাত্মক কানে লাগল। সাধারণত এই ‘মেয়েছেলে’ শব্দটা শুনলেই আমার পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। কেমন যেন অবহেলা মিশে আছে শব্দটাতে। রাগটাকে কোনোমতে সামলাতে পারি না। কিন্তু এই ড্রাইভারকে নিয়ে আমাকে এখনও ত্রিশ কিলোমিটার চলতে হবে। তাই চুপ করে রইলাম।

ড্রাইভার ছেলেটা নতুন। একে আগে দেখিনি। এর আগে যাদের নিয়ে যাই আসি তারা আমায় বিলক্ষণ চেনে। একে বিজনদা আজকে কেন পাঠালো কে জানে! বাকিরা নাকি আজকে কেউ নেই। শুধু এই অরুণ বলে ছেলেটিই ছিল আজ ফাঁকা। অগত্যা একে নিয়েই চলতে হবে। তাই আমি মুখ বন্ধ করলাম। কিন্তু সে গল্পে বড্ড উৎসাহী। কোন কোন রাজ্যে গাড়ি নিয়ে গেছে আর সেখানে কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছে সেসব বকেই যাচ্ছিল। আমার মাথায় তখন অন্য একটা কথা ঘুরছিল। কত বছর পরে পৌষালীর সঙ্গে কথা হল গতকাল রাতে। কয়েকযুগ যেন।

সেই ইউনিভার্সিটির পরে আর তো সেভাবে কথা হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। ওর বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিল, আমারই কোনো কাজ থাকায় যেতে পারিনি। সুদীপ্তর সঙ্গে বিয়েটা হচ্ছে সেটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই জানতাম। কারণ ওদের প্রেমটা ইউনিভার্সিটির সবাই জানত। সুদীপ্তর যেটা সব থেকে ভালো লাগত সেটা ওর লিবারেল মানসিকতা। কিন্তু কাল পৌষালীর সঙ্গে কথা বলে মনটা তিক্ত হয়ে আছে। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই সুদীপ্ত আর ওর পরিবার মিলে পৌষালীর চাকরিটা ছাড়িয়ে দিয়েছিল চূড়ান্ত অশান্তি করে। এমনকি শাড়ি ছাড়া আর কোনো পোশাক পরতে দেয় না ওকে সুদীপ্ত। সুদীপ্ত বলত, মেয়েদের আমি খুব সম্মান করি।

আমি চাইবুঝলেন ম্যাডাম, আমি মেয়েছেলেদের হেভি সম্মান করি। কত কাজ করে তারা! ড্রাইভারের বলা কথাটা মারাত্মক কানে লাগল। সাধারণত এই ‘মেয়েছেলে’ শব্দটা শুনলেই আমার পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। কেমন যেন অবহেলা মিশে আছে শব্দটাতে। রাগটাকে কোনোমতে সামলাতে পারি না। কিন্তু এই ড্রাইভারকে নিয়ে আমাকে এখনও ত্রিশ কিলোমিটার চলতে হবে। তাই চুপ করে রইলাম। ড্রাইভার ছেলেটা নতুন। একে আগে দেখিনি। এর আগে যাদের নিয়ে যাই আসি তারা আমায় বিলক্ষণ চেনে।

একে বিজনদা আজকে কেন পাঠালো কে জানে! বাকিরা নাকি আজকে কেউ নেই। শুধু এই অরুণ বলে ছেলেটিই ছিল আজ ফাঁকা। অগত্যা একে নিয়েই চলতে হবে। তাই আমি মুখ বন্ধ করলাম। কিন্তু সে গল্পে বড্ড উৎসাহী। কোন কোন রাজ্যে গাড়ি নিয়ে গেছে আর সেখানে কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছে সেসব বকেই যাচ্ছিল। আমার মাথায় তখন অন্য একটা কথা ঘুরছিল। কত বছর পরে পৌষালীর সঙ্গে কথা হল গতকাল রাতে। কয়েকযুগ যেন। সেই ইউনিভার্সিটির পরে আর তো সেভাবে কথা হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। ওর বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিল, আমারই কোনো কাজ থাকায় যেতে পারিনি। সুদীপ্তর সঙ্গে বিয়েটা হচ্ছে সেটা আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবাই জানতাম।

কারণ ওদের প্রেমটা ইউনিভার্সিটির সবাই জানত। সুদীপ্তর যেটা সব থেকে ভালো লাগত সেটা ওর লিবারেল মানসিকতা। কিন্তু কাল পৌষালীর সঙ্গে কথা বলে মনটা তিক্ত হয়ে আছে। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই সুদীপ্ত আর ওর পরিবার মিলে পৌষালীর চাকরিটা ছাড়িয়ে দিয়েছিল চূড়ান্ত অশান্তি করে। এমনকি শাড়ি ছাড়া আর কোনো পোশাক পরতে দেয় না ওকে সুদীপ্ত। সুদীপ্ত বলত, মেয়েদের আমি খুব সম্মান করি। আমি চাই তারা স্বাধীনভাবে বাঁচুক।

সেই ছেলেটা এত বদলে গেল! পৌষালী বলল, সুদীপ্ত নাকি বলেছে পৌষালী ওর সামনে হাত পেতে দাঁড়াবে টাকার জন্য এটাই ওর প্রাপ্তি। মেয়েটার গলায় কেমন একটা কষ্ট দলা পাকিয়ে আছে। নিজের বাড়িতেও কাউকে বলতে পারে না। বললেই সবাই বলে, পছন্দ করে বিয়ে করেছিস, আমরা কী করব? অদ্ভুত এক মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। এখন সন্তান মানুষ করা ছাড়া দ্বিতীয় কিছু কাজ নেই ওর। নিজের সব স্বপ্নগুলোর জলাঞ্জলি দিয়েছে। খুব ভালো আবৃত্তি করত মেয়েটা, চর্চার অভাবে সেসব এখন অতীত।

ভাবনার মধ্যেই শুনতে পেলাম, অরুণ ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছে। আরে তোমাদের মেয়েছেলেদের এই এক সমস্যা। কথা বললে শুনতে চাও না। বললাম, আমি ফেরার সময় রাতে খাবার নিয়ে ফিরব। তুমি কেন কাজ থেকে ফিরে আবার রান্নায় লাগলে? এরপর আবার হাতে-পায়ে যন্ত্রণা হবে বুঝবে তখন। আরে এত খাটুনি কি সহ্য হয়! আর খেয়েছো ফিরে? তোমাদের মেয়েছেলেদের কথা বললে কিছুতেই শুনতে চাও না।

আমি গাড়ি চালিয়ে যাব সেই সমুদ্রগড়ে। ফিরতে ফিরতে সন্ধে হবে দিদিমনির। তুমি খেয়ে নাও। খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নাও। বাবু স্কুল থেকে ফেরা অবধি। ওদিক থেকে ভেসে এলো মহিলা কণ্ঠস্বর, সাবধানে চালিও। ফোনটা রেখে বলল, বুঝলেন দিদিমনি মেয়েছেলেরা কথা শোনে না। আমার বউ, যতই বলি খাওয়া-দাওয়া ঠিক করে করো শুনবে না। এত খাটুনি পোষায়? আয়ার কাজ করে, নাইট ডিউটি থাকে। কম পরিশ্রমের? খাওয়া-দাওয়া না করলে চলে? আরে আমরা ব্যাটাছেলেরা যেখানে খুশি দুটো খেয়ে নেব। সংসারের সব দায় তো তোমাদের। শরীরের যত্ন করতে হবে না? আমি হেভি সম্মান করি মেয়েছেলেদের।

দশ হাতে কাজ করে যেন। আমরা এত পারব না। হেসে ফেললাম নিজেই। আসলে অনেক সময় বাচনভঙ্গিমায় বা মার্জিত ব্যবহারে আমরা আকৃষ্ট হই ঠিকই কিন্তু আসল পরিচয় তো তার কাজে, তার মানসিকতায়। অরুণ আর সুদীপ্তর মধ্যে একটা বিশাল পার্থক্য। সুদীপ্ত মেয়েদের স্বাধীনতা চেয়েছিল, কিন্তু নিজের স্ত্রীকে সেটা দিতে নারাজ ছিল। আর অরুণ মেয়েছেলেদের যেমন সম্মান করে তেমন তাদের যত্ন নিতেও জানে। তাই নাইট ডিউটি করে ফেরা স্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ চিন্তিত। সম্মানটা শুধু বাচনভঙ্গিমাতে থাকে না বোধহয়, থাকে অন্তরে।

কলমে-অর্পিতা সরকার ©Arpita Sarkar তারা স্বাধীনভাবে বাঁচুক। সেই ছেলেটা এত বদলে গেল! পৌষালী বলল, সুদীপ্ত নাকি বলেছে পৌষালী ওর সামনে হাত পেতে দাঁড়াবে টাকার জন্য এটাই ওর প্রাপ্তি। মেয়েটার গলায় কেমন একটা কষ্ট দলা পাকিয়ে আছে। নিজের বাড়িতেও কাউকে বলতে পারে না। বললেই সবাই বলে, পছন্দ করে বিয়ে করেছিস, আমরা কী করব? অদ্ভুত এক মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। এখন সন্তান মানুষ করা ছাড়া দ্বিতীয় কিছু কাজ নেই ওর। নিজের সব স্বপ্নগুলোর জলাঞ্জলি দিয়েছে। খুব ভালো আবৃত্তি করত মেয়েটা, চর্চার অভাবে সেসব এখন অতীত।

ভাবনার মধ্যেই শুনতে পেলাম, অরুণ ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছে। আরে তোমাদের মেয়েছেলেদের এই এক সমস্যা। কথা বললে শুনতে চাও না। বললাম, আমি ফেরার সময় রাতে খাবার নিয়ে ফিরব। তুমি কেন কাজ থেকে ফিরে আবার রান্নায় লাগলে? এরপর আবার হাতে-পায়ে যন্ত্রণা হবে বুঝবে তখন। আরে এত খাটুনি কি সহ্য হয়! আর খেয়েছো ফিরে? তোমাদের মেয়েছেলেদের কথা বললে কিছুতেই শুনতে চাও না। আমি গাড়ি চালিয়ে যাব সেই সমুদ্রগড়ে। ফিরতে ফিরতে সন্ধে হবে দিদিমনির। তুমি খেয়ে নাও। খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নাও।

বাবু স্কুল থেকে ফেরা অবধি। ওদিক থেকে ভেসে এলো মহিলা কণ্ঠস্বর, সাবধানে চালিও। ফোনটা রেখে বলল, বুঝলেন দিদিমনি মেয়েছেলেরা কথা শোনে না। আমার বউ, যতই বলি খাওয়া-দাওয়া ঠিক করে করো শুনবে না। এত খাটুনি পোষায়? আয়ার কাজ করে, নাইট ডিউটি থাকে। কম পরিশ্রমের? খাওয়া-দাওয়া না করলে চলে? আরে আমরা ব্যাটাছেলেরা যেখানে খুশি দুটো খেয়ে নেব। সংসারের সব দায় তো তোমাদের। শরীরের যত্ন করতে হবে না? আমি হেভি সম্মান করি মেয়েছেলেদের। দশ হাতে কাজ করে যেন।

আমরা এত পারব না। হেসে ফেললাম নিজেই। আসলে অনেক সময় বাচনভঙ্গিমায় বা মার্জিত ব্যবহারে আমরা আকৃষ্ট হই ঠিকই কিন্তু আসল পরিচয় তো তার কাজে, তার মানসিকতায়। অরুণ আর সুদীপ্তর মধ্যে একটা বিশাল পার্থক্য। সুদীপ্ত মেয়েদের স্বাধীনতা চেয়েছিল, কিন্তু নিজের স্ত্রীকে সেটা দিতে নারাজ ছিল। আর অরুণ মেয়েছেলেদের যেমন সম্মান করে তেমন তাদের যত্ন নিতেও জানে। তাই নাইট ডিউটি করে ফেরা স্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ চিন্তিত। সম্মানটা শুধু বাচনভঙ্গিমাতে থাকে না বোধহয়, থাকে অন্তরে।

Back to top button