শীতকাল আসার আগে অপরাজিতা গাছে করুন এই একটি সহজ কাজ, এক সপ্তাহেই ফুলে ভরে যাবে গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদন : গাছপালার প্রতি কিন্তু কিছু মানুষের এক প্রকার আলাদাই ভালোবাসা রয়েছে। আজকাল অনেকেই কিন্তু অবসর সময়ে বাড়িতে নানান ধরনের গাছ লাগিয়ে থাকেন এবং সেগুলির পরিচর্যাতে সময় কাটান। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চলেছি অপরাজিতা গাছের পরিচর্যা নিয়ে। কিভাবে পরিচর্যা করলে এবং কি সার ব্যবহার করলে মাত্র অল্প দিনের মধ্যেই গাছে ফুল আসবে এবং ভালোভাবে গাছ বৃদ্ধি পাবে সমস্ত কিছু নিয়েই এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব।

তবে তার আগে আপনাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি,অপরাজিতা ফুলটি Popilionaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর ইংরেজি নাম ‘বাটারফ্লাই পি’। গাঢ় নীল বলে একে ‘নীলকণ্ঠ’ নামেও ডাকা হয়। অপরাজিতা সাধারণত নীল ছাড়াও সাদা এবং হালকা বেগুনি রঙের ফুল হয়ে থাকে। ফুলের ভেতরের দিকটা সাদা বা ঈষৎ হলুদ রঙের হয়ে থাকে। লতানো এবং সবুজ পাতা বিশিষ্ট গাছে এ ফুল হয়ে থাকে। তবে ফুলে কোনো গন্ধ নেই।

অপরাজিতা গাছের পরিচর্যা এবং সার প্রয়োগ :

অপরাজিতা গাছে কিন্তু অনেক ধরনের সমস্যা দেখা যায় যেমন ধরুন গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া। এর জন্য কিন্তু আপনাদের অবশ্যই মাঝে মাঝে গাছ ট্রিমিং করে নেওয়া প্রয়োজন। যদি আপনার অপরাজিতা গাছের ডাল জংলি ভাবে বেড়ে উঠে থাকে তাহলে কিন্তু এটা ভীষণভাবে প্রয়োজন। নয়তো দেখবেন গাছের বৃদ্ধি হতে বা ফুল আস্তেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। যখন আপনারা অপরাজিতা গাছে ট্রিমিং করবেন তখন দেখবেন কোথা থেকে নতুন ডাল বেরোচ্ছে। কারণ সেখান থেকে কাটলেই কিন্তু সুবিধে হবে।

যে অংশে নতুন ডাল বেরোচ্ছে সেই অংশটা কে কেটে নিন।। প্রধান কাণ্ড থেকে লক্ষ্য করবেন যে সমস্ত মোটা ডাল রয়েছে সেগুলোকেও চেষ্টা করবেন কেটে ফেলার। মাথায় রাখবেন এই গাছের নিয়ম হচ্ছে এই গাছকে আপনারা যতটাই কাটাইছাঁটাই করবেন এটা কিন্তু ততটাই ঘন হয়ে যাবে। চেষ্টা করবেন প্রত্যেক বারই গাছ অত্যন্ত ঘন হয়ে যাওয়া বা বা ডালপালা ছড়িয়ে যাওয়ার পরে গাছ এভাবে কাটাই করে নেওয়ার। গাছের যে সমস্ত ডাল উপরের দিকে রয়েছে শুধুমাত্র সেগুলিই যেন গাছে থাকে। তাহলে কিন্তু গাছের বৃদ্ধিতে আর আপনাদের কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।।

এবার আসা যাক গাছের সার প্রয়োগের কথায়। গাছকে কিন্তু আপনাদের পরিমাণ মতন ভরপুর জল দিতে হবে সময়ে। অপরাজিতা গাছে যখন আপনারা সার প্রয়োগ করবেন তখন এর গোড়ার মাটি একটু খুড়ে নেবেন। এবার এতে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে একটি জৈব মিক্সচার সার। মোটামুটি এক মুঠো পরিমাণে এই সার নিয়ে গাছের গোড়ার মাটিতে চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। খেয়াল রাখবেন এই সারের মধ্যে যেন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম থেকে শুরু করে নানান ধরনের অনুখাদ্য মেশানো থাকে। তাহলে কিন্তু আর অন্য কোন ধরনের সার প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র এই একটাতেই কিন্তু ভালো কাজ হয়ে যাবে।

অপরাজিতা বা নীলকন্ঠ ফুলের উপকারিতা:

১) এই ফুল দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। এর সাহায্যে ঝাপসা দৃষ্টি, রেটিনার ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

২) রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অপরাজিতার চা অবিশ্বাস্য উপকারী। খাবারের মাঝে নেওয়া এক কাপ নীল চা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

৩) অকালে চুল পড়া রোধ করতেও কিন্তু অপরাজিতা ফুলের ভূমিকা রয়েছে। ফুলের উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। এইভাবে চুলের ক্ষতি এবং চুল পড়ার চিকিৎসা করা যায়।

Back to top button