স্বামীর মৃত্যুতে আকাশ ভেঙে পড়েছিল মাথায়! চার মাস যেতে না যেতেই নিজেই করেন পরলোক গমন, সৌমিত্র চ্যাটার্জীর স্ত্রী দীপা চ্যাটার্জীর করুণ পরিণতি চোখে আনবে জল

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভালোবেসেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দীপা দেবী। তারপর সারাটা জীবন ছায়া সঙ্গী হয়ে একে অপরের পাশে ছিলেন। সৌমিত্র বাবুর সফল কেরিয়ারের নেপথ্যে স্ত্রী দীপা দেবীর আত্মত্যাগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা আপনাদের জানাবো তার জীবনেরই কিছু অজানা কথা।

সৌমিত্র বাবুর সাফল্যের অন্যতম প্রেরণা ছিলেন স্ত্রী দীপা চাটার্জী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোসফি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন দীপা দেবী। লেখাপড়ার সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতেও অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন দীপা দেবী। নিয়মিত প্র্যাকটিস করতেন তিনি। খেলার মাধ্যমে বহু পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন। কলেজে পড়ার সময় থেকেই সৌমিত্র বাবুর সঙ্গে তার প্রেম শুরু হয়।

ততদিনে সৌমিত্র বাবু ও অভিনয়ে জগতে পা রেখেছিলেন। ১৯৬০ সালের ১৮ই এপ্রিল বিবাহ হয় তাদের। এদিন সৌমিত্র বাবুর অনিশ্চিত জীবনের সঙ্গী হয়েছিলেন দীপা চ্যাটার্জী। কঠিন পরিস্থিতিতে দুজনে একসঙ্গে গাছ তলাতে দাঁড়াতেও প্রস্তুত ছিলেন। এরপর তাদের দুই সন্তান জন্ম নেয়। পুত্র সৌগত চ্যাটার্জী এবং কন্যা পৌলোমী চ্যাটার্জী।

দুই সন্তান এবং স্বামীকে নিয়ে দীপা দেবীর ছিল সুখের সংসার। যখন সৌমিত্র বাবু ছবির দুনিয়ায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন তখন অপরদিকে দুই সন্তানকে নিয়ে একা হাতে সংসার সামলেছেন দীপা দেবী। সৌমিত্র বাবুর পারিবারিক জীবনে পর্বতের মতন মহীয়ান ছিলেন দীপা দেবী। স্বামীর চলচ্চিত্র এবং নাটকে অসামান্য সাফল্য, পুত্রের সুস্বাস্থ্য এবং কন্যার নৃত্যশৈলীতে তার অদম্য অনুপ্রেরণা আর আত্মত্যাগ ছিল নজির বিহীন। এছাড়াও দীপা দেবী ছিলেন অত্যন্ত বন্ধু বৎসল, অতিথিপরায়ন এবং দয়াবান।

সংসার সামলে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন দীপা দেবী। ১৯৭০ সালের বিলম্বিতলয়, ১৯৯৮ সালের দ্য ট্রেন ও ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া দুর্গা ছবিতে তার অভিনয় দেখা যায়। দীর্ঘ ষাট বছরের দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করে ২০২০ সালের ১৫ ই নভেম্বর যখন সৌমিত্র বাবু মারা গেলেন, তখন দীপা দেবী শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলেন।

এমনিতেই দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন দীপা চ্যাটার্জি। এছাড়াও রক্তের সমস্যার জন্য নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বামীর প্রয়াণ তাকে আরো অনেক বেশি অসুস্থ করে তুলেছিল। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তার কিডনি জনিত সমস্যা ধরা পড়েছিল।এই কিডনির সমস্যাই দীপা চাটার্জীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

সৌমিত্র বাবুর মৃত্যুর ৫ মাসের মাথায় দীপা দেবী ও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। জীবন সঙ্গীর কাছে পাড়ি দিতে একেবারেই দেরি করেননি তিনি। প্রতিবেদনটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আপনারা পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারেন। বিনোদন জগত সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদন গুলির উপর নজর রাখতে থাকুন।

Back to top button