“মা কালীর পিঠ থেকে বেরোচ্ছে রকেট! বলদের মতো নাচছে মহিষাসুর! এটা মহালয়া নাকি নাচের স্কুল?”, ভুলবশত মহালয়া দেখায় অনুতপ্ত ঝিলাম গুপ্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- একটা সময় মহালয়ার আগের দিন রাত থেকেই মানুষের মধ্যে কিন্তু এক প্রকার আলাদা আবেগ কাজ করতো। তবে এখন আর সেই আবেগের ছিটে মাত্র নেই বলা যায়। দূরদর্শন একটা সময় অত্যন্ত লিমিটেড জিনিস নিয়ে যে মহিষাসুরমর্দিনী দেখিয়েছিল তা দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছিল ব্যাপকভাবে। এখন সময় বদলেছে। মহালয়ার বাজেট বেড়েছে। ভিএফএক্স উন্নত হয়েছে। তবে মহালয়ার মধ্যে সেই প্রাণ নেই, মহালয়া যেন সকলের কাছে হাসির খোরাক।

সম্প্রতি গতকাল মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন চ্যানেলে মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠান দেখে এমনটাই বলেছেন ইউটিউবার ঝিলম গুপ্ত। যদিও বিভিন্ন চ্যানেল থেকে ভাইরাল মহালয়ার প্রমো ভিডিও দেখার পর অনেক সাধারন মানুষ কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং এই ধরনের মহালয়া বয়কট করার কথা বলেছিলেন। যাইহোক আমরা আজকে চলে আসব মূল প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে। ঝিলাম গুপ্ত সম্প্রতি একটি ইউটিউব ভিডিও করে বলেন যে মানুষ যখন কোন ভুল অনিচ্ছাকৃত করে তখন তাকে ক্ষমা করা যায় কিন্তু ইচ্ছাকৃত কেউ কোন ভুল করলে তাকে ক্ষমা করা উচিত নয়। কিন্তু তিনি এই কথা কেন বললেন?

আসলে ভিডিও শুরু করার আগে ঝিলাম গুপ্ত এই ক্ষমার ব্যাপারে বলেছেন কারণ তিনি জানিয়েছেন প্রত্যেক চ্যানেলে ঢুকে তিনি মহালয়া গুলো দেখে ফেলেছেন। এই ইউটিউবারের কথায়, “কালার্স বাংলা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা চ্যানেলের মহালয়ায় খুব বিরক্তিকর লেগেছে আর কালার্স বাংলার ধূমাবতীকে দেখে মনে হচ্ছে শুধু চুলটাই পাকা বাকি গোটা শরীর ইয়ং যেন কলেজের কোন ছাত্রী ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছে। অন্যদিকে কালার্স বাংলার কালী শ্রুতি দাস এর পিছনে অসম্ভব লাইটের এফেক্ট ছিল, পিছন থেকে উল্কাপাত হচ্ছিল এবং কালীর পিঠের দিকে বিদ্যুৎ দেখানো হচ্ছিলো। আপনারা কোথায় পেলেন?

ওটা স্বর্গ ওখানে এত বিদ্যুৎ থাকবে কেন ওটা কি ইলেকট্রিসিটি অফিস..”? এখানেই থেমে যাননি ঝিলম গুপ্ত। নিজের ভিডিওতে তিনি আরো বলেন যে, “এরা পূরণের গল্পকেও পরিবর্তন করে ফেলেছে সম্পূর্ণভাবে। অসুর যুদ্ধ করার সময় লাফ দেবে এটা মানা যায় কিন্তু মিনিটে মিনিটে এরকম নাচবে কেন? অন্যদিকে দেবাদিদেব মহাদেব জি বাংলার দেবাদিদেব মহাদেব নাচছে আর কালার্স বাংলার মহাদেব কাঁদছে! তিনি সমস্ত দেবতার দেবতা তাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে নামিয়েছেন? সমস্ত দেব-দেবী থেকে শুরু করে সবাই নাচছে এত নাচানাচির কি আছে বুঝতে পারি না!

চ্যানেলে চ্যানেলে এত কম্পিটিশন কিন্তু মহালয়ার দিন প্রতিটি চ্যানেল খুললেই মনে হয় যেন নাচের স্কুল”! সবশেষে প্রত্যেকটি প্রাইভেট চ্যানেলের উদ্দেশ্যে ঝিলাম গুপ্ত অনুরোধ করেন যে, “দয়া করে ডিডি বাংলার সেই পুরোনো সাবেকী মহালয়া ফিরিয়ে আনুন। টেনে হিজড়ে বানানো গল্পে কিছু নেই মিনিটে মিনিটে নাচ দিয়ে মহালয়া কে বাড়াবেন না”। প্রসঙ্গত মহালয়ার প্রমো ভিডিওগুলি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেলগুলিকে রীতিমতো হাসির খোরাকে পরিণত করেছিলেন নেটিজেনরা।

অসুরের গায়ের রং থেকে শুরু করে মেকআপ সমস্ত কিছু নিয়েই চলছিল মজা। কোথাও ক্যাপসিকাম বা টমেটোর মতন দেখতে অসুরের মেকআপ আবার কোথাও বা অতিরিক্ত লাইট বা ভিএফএক্স এর কাজ সব মিলিয়ে মহালয়ার সকালে প্রাইভেট চ্যানেলগুলি রীতিমতো হয়ে উঠেছিল মজার জায়গা। এই প্রসঙ্গে আপনাদের কি মতামত তা অবশ্যই আমাদের প্রতিবেদনের কমেন্ট বক্সে শেয়ার করে নিতে পারেন। আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Back to top button