একসময় ছিল কাপড়ের ব্যবসা! সেখান থেকে আজ টলিপাড়ার শাহেনশা, জিতের জীবনের এই অজানা গল্প শুনলে গায়ে দেবে কাঁটা!

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলা চলচ্চিত্র জগতে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত অভিনেতা জিৎ। বর্তমানে বাংলায় বহু সংখ্যক ভক্ত রয়েছে তার। জন্মসূত্রে বাঙালি না হলেও তার পড়াশোনা থেকে শুরু করে পেশা সবকিছুর শুরু এই বাংলা থেকেই। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা পাঠকদের সাথে শেয়ার করে নেব অভিনেতা জিতের জীবনের কিছু অজানা গল্প।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি তার আসল নাম জিতেন্দ্র মদনানী। ৩০ শে নভেম্বর ১৯৭৮ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স ৪২ বছর। জিতের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট এবং চোখের রং ডার্ক ব্রাউন। অভিনেতার বাবা ছিলেন পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী এবং মা গৃহবধূ। অন্যদিকে জিতের স্ত্রী মোহনা একজন স্কুল শিক্ষিকা। জিৎ আর মোহনার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে যার নাম নবন্যা।

২০০২ সালে সাথি ছবির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন জিৎ। সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার তিনি যখন প্রথম সিনেমায় আসেন তখন তার পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ৪০ হাজার টাকা। অথচ আজ তিনি সিনেমা প্রযোজনা করেন এবং সিনেমার লাভ বা লস এর একটা বড় অংশ অভিনেতা নিজেই পান। ২০২০ সালের একটি তথ্য অনুযায়ী অভিনেতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য জিৎ এর বাবার কলকাতায় ছিল একটি কাপড়ের দোকান। তবে বাড়িতে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে মাঝপথেই পড়াশোনা বন্ধ করে বাবার ব্যবসায় যোগদান করেন জিৎ। কিন্তু ছোট থেকেই তার মধ্যে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন কাজ করতো। তাই ব্যবসার পাশাপাশি তিনি মডেলিংয়ে অংশগ্রহণ করতে থাকেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মডেলিং করে তার কেরিয়ার শুরু। তিনি টিভিতে প্রথম নজরে আসেন নবাব গেঞ্জীর কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপনে।

এরপর তিনি কিছু টেলিভিশান সিরিয়ালে অভিনয় করেন যেমন বিষবৃক্ষ, জন্মভূমি ইত্যাদি। বেশ কিছু সময় বলিউডে অভিনয়ের চেষ্টা করলেও খুব একটা নাম অর্জন করতে পারেননি তিনি। তবে বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে তিনি কাজ করেন। এরপর চন্দু নামের একটি তেলেগু সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন জিৎ। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে বিশেষ কোন সাফল্য লাভ করতে না পারায় মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙ্গে পড়েছিলেন অভিনেতা।

এরপর আবারো নিজের শহর কলকাতায় ফেরত চলে আসেন তিনি। ঠিক এই সময় পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী নিজের পরবর্তী ছবির সাথীর জন্য একটি নতুন মুখ খুঁজছিলেন। সেই ছবিতেই কাজ করেন জিৎ। প্রথমে এই ছবির জন্য প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কে অফার দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি সেই অফার ফিরিয়ে দেওয়ায় জিৎকে দেওয়া হয়।। যদিও পরবর্তীকালে এই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে জিৎ বলেছেন, সাথী না এলেও হাতি আসত, প্রতিভা এবং ডেডিকেশান থাকলে সাফল্য আসবেই।

সাথী ছবির গান, বিশেষ করে ‘ও বন্ধু তুমি শুনতে কি পাও’ সেই সময় বাঙালী শ্রোতাদের খুবই আকৃষ্ট করেছিল। এই সিনেমা বাঙালী দর্শককে আবার হলমুখী করে তোলে। জিতের অভিনয় সকলের প্রশংসা পায়। প্রসেনজিৎ চিরঞ্জিত পরবর্তী জমানার প্রথম হিরো হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই অভিনেতা। এরপর টলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন এই অভিনেতা।

জিতের বিপরীতে সব থেকে বেশি বার নায়িকা রূপে দেখা গিয়েছে কোয়েল মল্লিককে। এছাড়াও জিত আর স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ে জুটি দর্শকমহলে সাড়া ফেলেছিল। এমনকি গুজব শোনা যায় এই দুই তারকার মধ্যে প্রেম সম্পর্কও সৃষ্টি হয়েছিল যদিও তা পরিণতি পায়নি। ২০১২ সালে তিনি নিজের প্রোডাকশান সংস্থা গ্রাসরুট এন্টারটেইনমেন্টের সূচনা করেন। এই সংস্থার প্রথম ছবি ১০০% লাভ।

অভিনয়ের সময়টুকু ছাড়া পুরো অবসর টাই স্ত্রী আর মেয়ের সঙ্গে কাটাতে ভালোবাসেন অভিনেতা। তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের চোখ রাখলে আপনারা কিন্তু প্রায় সময় স্ত্রী আর কন্যার সঙ্গে ছবি দেখতে পারবেন। তিনি এখনও কালীঘাটের নিজের পৈতৃক বাড়িতেই থাকেন। বর্তমানে বাবা-মা স্ত্রী এবং এক কন্যাকে নিয়ে সুখের সংসার অভিনেতা জিৎ এর।

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বর্তমান সময়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত তিনি। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না। টলিউড ইন্ডাস্ট্রির কোন অভিনেতা কে আপনাদের সবথেকে ভালো লাগে তা আপনারা কমেন্ট বক্সে শেয়ার করে নিতে পারেন। আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

Back to top button