বহুদিন ধরেই আলাদা থাকেন স্ত্রী মাধবী মুখার্জি! শেষ বয়সে কোথায় আছেন কিংবদন্তি অভিনেতা নির্মল কুমার?

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা নির্মল কুমার। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। নায়ক ,খলনায়ক থেকে শুরু করে চরিত্রাভিনেতা সমস্ত ধরনের কাজেই তিনি বেশ সচ্ছন্দ্য ছিলেন। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব নির্মল কুমারের জীবনের কিছু অজানা কথা। শুরুতেই জানিয়ে রাখি নির্মল কুমার চক্রবর্তীর জন্ম ১৯২৮ সালের ১৪ই ডিসেম্বর কলকাতায়। তার মধ্যে সহজাত অভিনয় গুণ ছিল। খুব সম্ভবত কালিন্দী ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় পা রাখেন তিনি।

তার সুদর্শন চেহারা এবং লাজুক মিষ্টি স্বভাব পছন্দ করত দর্শকেরা। নিজের অসাধারণ অভিনয় দিয়েও সকলের মন জয় করে নিয়েছিলেন নির্মল বাবু। কোন বাঙালি দর্শক কিন্তু বিমল কুমার অভিনীত ছায়াসূর্য ছবি বা বিন্দুর ছেলে কখনই ভুলতে পারবেন না। মীরাবাঈ থেকে শুরু করে গোধূলি, ভাঙ্গা গড়া, মধ্যরাতের তারা, জন্মান্তর প্রভৃতি ছবিতে নায়ক অথবা সহনায়কের ভূমিকায় তার অভিনয় ছিল মনে রাখার মত। তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় কিংবদন্তি পরিচালক তপন সিনহার ক্ষণিকের অতিথি ছবিতে অভিনয় করে।

এই ছবিটি এখনো পর্যন্ত তার অভিনয়ে জীবনের অন্যতম মাইলস্টোন হিসেবে পরিচিত। এই ছবিতে রুমা গুহ ঠাকুরতার সঙ্গে তার রসায়ন দর্শকদের আপ্লুত করে। এরপর তপন সিনহা পরিচরিত আরো বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছিলেন নির্মল কুমার। উপহার, লৌহ কপাট, কালো মাটি ইত্যাদিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাকে। এছাড়াও পরবর্তীকালে আপনজন, বাঞ্ছারামের বাগানের মতন কালজয়ী ছবিতেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন নির্মল বাবু। মহানায়ক উত্তম কুমার এবং মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের সঙ্গেও কিন্তু তিনি কাজ করেছেন।

কমললতা ছবিতে মহানায়িকার সঙ্গে তার অভিনয় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ছবির জন্য বিএফজে পুরস্কার পেয়েছিলেন নির্মল বাবু। সাবিত্রী চ্যাটার্জী থেকে শুরু করে, অরুন্ধতী দেবী, সন্ধ্যা রানী বা সুপ্রিয়া দেবীর মতো অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন।। অভিনয়ের সূত্রে তিনি মাধবী মুখোপাধ্যায়ের প্রেমে পড়েছিলেন। শোনা যায় একটি পার্টিতে তিনি মাধবী দেবীকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন অভিনেত্রী। স্বয়ং মহানায়ক উত্তম কুমার বরকর্তা হয়ে হাজির হয়েছিলেন তাদের বিয়েতে। দুটি কন্যা সন্তান ও রয়েছে তাদের।

বাংলা ছাড়াও বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে কাজ করেছিলেন নির্মল কুমার। একসময় বেতার নাটকেও নির্মল বাবু ছিলেন পরিচিত মুখ। তার অসাধারণ রোমান্টিক কন্ঠস্বর তাকে বেতার নাটকে জনপ্রিয়তা পেতে সাহায্য করেছিল। আটের দশকের পরেও বহু বাংলা ছবিতে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তাকে দেখা গিয়েছে। বর্তমানে ৯৩ টা বসন্ত পার করে তিনি তার মেয়ে মিমি, জামাই এবং নাতনী জয়ী’কে নিয়ে থাকেন লেক গার্ডেনসে নিজের দোতলা বাড়িতে। তার স্ত্রী মাধবী মুখার্জি বহু বছর হল তার থেকে আলাদা থাকেন।

তবে সুখে- দুঃখে, প্রয়োজনে অথবা অপ্রয়োজনে মেয়ে আর নাতনির টানে মাধবী দেবী ছুটে যান স্বামীর বাড়িতেই।।আলাদা থাকলেও তাদের দুজনের মধ্যে বেশ ভালোই যোগাযোগ রয়েছে বলা যায়। নির্মল বাবুর শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বহুদিন ধরেই নানান ধরনের বার্ধক্য জনিত সমস্যা আর হৃদরোগে ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি কিছু সময় আগেই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে।

সেখান থেকে সুস্থ হয়ে আসার পর বাড়িতে ফিরে খাওয়া দাওয়া অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন একদা খাদ্যরসিক নির্মল বাবু। সারাটা দিন খবরের কাগজ পড়ে অথবা বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়েই তার কেটে যায়। বয়সের ভারে বাইরের জগত অনেকটাই পরিত্যাগ করেছেন তিনি। আপনাদের এই অভিনেতাকে কেমন লাগে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।

Back to top button