“শাড়ির ব্যবসা করা কি খারাপ? কেউ তো এক পয়সাও দেবে না!”, শাড়ি বিক্রি নিয়ে ট্রোল করায় পাল্টা প্রতিক্রিয়া রচনার

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রথম সারির জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন রচনা ব্যানার্জি। দীর্ঘ সময় ধরেই বাংলা আর ওড়িয়া চলচ্চিত্রে একের পর এক সুপারহিট মুভিতে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন রচনা। সেই সময়ের একাধিক জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বাঁধতে দেখা গিয়েছে তাকে। বর্তমানে প্রায় 40 এর কোঠায় বয়স হলেও অভিনেত্রীর গ্ল্যামার দেখে যে কোন তরুণী নায়িকাও কিন্তু হার মেনে যাবেন।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও অত্যন্ত বেশি রকমের সক্রিয় রচনা। প্রায় সময় নানান ধরনের ফটো আর ভিডিও শেয়ার করে থাকেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি বিগত কিছু বছর ধরে তিনি দিদি নম্বর ওয়ান অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার কাজে যুক্ত রয়েছেন। রচনা ব্যানার্জিকে ছাড়া দিদি নাম্বার ওয়ান অনুষ্ঠান তো ভাবাই যায় না।

বড় পর্দায় দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় না করলেও ছোট পর্দার এই দিদি নাম্বার ওয়ান তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে মানুষের কাছে। তবে আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না দিদি নাম্বার ওয়ান এর সঞ্চালনার পাশাপাশি আরো একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ‘রচনা’স ক্রিয়েশন’ নামে একটি শাড়ির বুটিকও রয়েছে তাঁর। গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এই নতুন ব্যবসা শুরু করেছিলেন রচনা ব্যানার্জি। যদিও এই ব্যবসা শুরু করার কারণে ব্যাপক কটাক্ষের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী।

একজন সেলিব্রিটি হওয়ার কারণে শাড়ির বুটিক খুলতে গিয়ে বেশ কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।সেইসময় কেউ বলেছিলেন ‘গরীবের পেটে লাথি মারছেন রচনা’, তো আবার কেউ বলেছিলেন ‘গড়িয়াহাটে ৬০০ টাকার শাড়ি ৬০০০ টাকায় বিক্রি করছেন রচনা’। এমনকি যারা অনলাইন সেলার রয়েছেন তারাও কিন্তু রচনা ব্যানার্জিকে এই পেশায় আসতে দেখে একেবারেই মেনে নিতে পারেন নি।। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল যে রচনা ব্যানার্জীর মতন একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী যদি এভাবে শাড়ি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে সাধারণ সেলাররা তো আর ব্যবসাই করতে পারবেন না!

যদিও এই সমস্ত কটাক্ষ বিন্দুমাত্র গায়ে মাখেননি রচনা ব্যানার্জি। সব থেকে বড় ব্যাপার তিনি কিন্তু নিজের শাড়ির ব্যবসাও বন্ধ করে দেননি। ঠিক যেরকম ভাবে তিনি এই ব্যবসা প্রথম দিকে শুরু করেছিলেন তেমনভাবেই বর্তমানে সেটা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচকদের একেবারে সপাটে জবাব দিয়েছিলেন রচনা। অভিনেত্রীর কথায়,তিনি কারোর কোন ট্রোলিং নিয়ে ভাবেন না। কারণ রচনার কথায় কেউ তাকে এক পয়সা দিয়ে হেল্প করবে না। প্রথম কাজে তিনি মাত্র ৪০০ টাকা পেয়েছিলেন। আর আজ তিনি সবটুকু করেছেন নিজের যোগ্যতায়।

পাশাপাশি রচনার দাবি, একটা সময়ের পর বিনোদন জগতে কাজ ধীরে ধীরে কমে যাবে। তখন তো তাকে বিকল্প রোজগারের পথ বাছতেই হবে । আর সেই বিকল্প পথ এখন থেকেই তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছেন নায়িকা। কেউ যদি সৎ পথে থেকে উপার্জন করে তার মধ্যে খারাপ কিছু তো নেই সুতরাং ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রীর প্রশ্ন ‘শাড়ির ব্যবসা করা কি সত্যিই খুব খারাপ কিছু’? যদিও অভিনেত্রীর এই পাল্টা উত্তরের পরে আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তার খুব একটা সমালোচনা হতে দেখা যায়নি। তবে সেলারদের একটা অংশ যে এখনো অসন্তুষ্ট হয়ে রয়েছেন সেটা বোঝাই যায়।

Back to top button