বাড়ির জবা গাছে অল্পদিনেই আসবে প্রচুর কুঁড়ি, শুধুমাত্র ব্যবহার করুন এই ঘরোয়া উপায়ে তৈরি জাদুকরী সার

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চলেছি জবা ফুল গাছের পরিচর্যার কথা। পুজোর ফুল হিসাবে চাহিদার বিচারে জবার স্থান অনেক উপরে। বিভিন্ন পুজোতে এই ফুলের কুঁড়ি ও মালার বিশেষ চাহিদা থাকে। এই চাহিদাকে সামনে রেখে এখন অনেকেই জবা ফুল চাষে মনোনিবেশ করেছেন। তবে সঠিক পদ্ধতিতে জবা গাছ চাষ না করলে কিন্তু কোন লাভ হবে না। তাই অবশ্যই আপনাদের এমন পদ্ধতি জেনে নিতে হবে যাতে ভালোভাবে গাছ বৃদ্ধি পাবে এবং গাছে প্রচুর পরিমাণে কুঁড়ি আসবে। চলুন আর দেরি না করে এবার প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

জবা গাছ পরিচর্যার বিশেষ পদ্ধতি:

কোন জৈব পদ্ধতিতে গাছের আপনারা যদি বৃদ্ধি করতে চান তাহলে কিন্তু সব থেকে ভালো হয়। সুতরাং সর্বদা কিন্তু আপনারা জবা গাছের জৈব সার প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন। গাছে প্রচুর পরিমাণে ফুল ফল পেতে গেলে আপনাদের এর খাদ্যের উপাদান হিসেবে নাইট্রোজেন, ফসফরাস আর পটাশিয়ামের যোগান দিতে হবে। চলুন একটি জৈব সার তৈরির পদ্ধতি জেনে নেওয়া যাক যাতে এই সমস্ত উপাদান পাওয়া যাবে।

সার তৈরির পদ্ধতি:

প্রথমেই আপনাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে কয়েকটি কলার খোসা নিয়ে নিতে হবে। অনেকেই কিন্তু বাড়িতে কলা নিয়ে আসার পরে সেই খোসা ফেলে দিয়ে থাকেন। এবার থেকে সেই ভুল আর করবেন না। কলার খোসার মধ্যে রয়েছে পটাশিয়াম। প্রথমেই কলার খোসাগুলিকে ছোট ছোট করে কেটে নিন এবং তার মধ্যে সর্ষের খোল মিশিয়ে দিন।। সরষের খোল কিন্তু গোটা অবস্থায় থাকে আপনারা অবশ্যই সেটাকে গুঁড়ো করে দেবেন। এই সর্ষের খোলের মধ্যে রয়েছে নাইট্রোজেন আর ফসফরাসের উপাদান।। ভালো করে এই উপাদান দুটিকে মিশিয়ে নিয়ে এর মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে কম্পোস্ট সার। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে এই মিশ্র সার।

সারের প্রয়োগ পদ্ধতি:

গাছ যখন বাড়ন্ত অবস্থায় থাকবে তখন মোটামুটি ২০ থেকে ২৫ দিন অন্তর আপনাদের এই সার জবা গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করে দিতে হবে। যখন আপনারা এই সার প্রয়োগ করবেন তখন অবশ্যই একটু মাটি খুঁড়ে দেবেন, তাহলে এটা ভালোভাবে গাছে পৌঁছে যাবে।

তরল সার ব্যবহার:

ঠিক যেভাবে আপনারা সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে জৈব সার তৈরি করলেন ঠিক তেমনভাবেই কিন্তু তরল সার তৈরি করা যেতে পারে। তার জন্য কলার খোসা কে ছোট টুকরো করে কেটে জলে কিছুক্ষণ মিশিয়ে রেখে সেই জল সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সরষের খোলের ক্ষেত্রেও কিন্তু একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ সর্ষের খোলকে জলে ভিজিয়ে রেখে আপনারা সেই জল কেউ কিন্তু জবা গাছের গোড়ায় তরল সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।। উপরিউক্ত এই পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করলে কিন্তু আপনাদের গাছ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি হবে এবং এতে বাম্পার ফুল আসবে।a

Back to top button