ভালোবেসে সারাজীবন রইলেন অবিবাহিত! শেষ বয়সে কেমন আছেন ৭৯ বছর বয়সী অভিনেত্রী আশা পারেখ? জানুন

নিজস্ব প্রতিবেদন: ছোটবেলা থেকেই তথা পঞ্চাশের দশকে শুরু হয়েছিল আশা পারেখের অভিনয় জীবন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি কাজ করে এসেছেন চলচ্চিত্রে। শুরু থেকেই স্বাধীনচেতা মেয়ে ছিলেন আশা। তার স্বাধীনতায় কখনো কিন্তু কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। এমনকি জীবনে প্রেম এলেও সারা জীবন অবিবাহিত থেকে গিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। কমবেশি হয়তো সকলেই আশা পারেখ নামটি শুনেছেন বা তার সম্পর্কে জানেন।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করে নেব অভিনেত্রীর জীবনের কিছু অজানা কথা। ১৯৪২ সালের ২ রা অক্টোবর আশার জন্ম হয়। তার বাবা বাচুভাই পারেখ ছিলেন গুজরাটি জৈন সম্প্রদায় ভুক্ত। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই তারা ছিলেন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তার মা ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের। জন্মের পরে আশার নাম রাখা হয়েছিল সুধা আর সালমা। পরে সেই নাম পরিবর্তিত হয়ে যায় আশায়। মায়ের ইচ্ছেই ছোট থেকেই নাচ শিখতেন আশা।

শিশু শিল্পী হিসেবে প্রথমবার আসমান ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে প্রথমবার এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। এরপর এক অনুষ্ঠানে 10 বছর বয়সী আশার নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান পরিচালক বিমল রায়। এরপর নিজের মা ছবিতে আবারো শিশু শিল্পী হিসেবে তাকে অভিনয়ের সুযোগ দেন তিনি। কিন্তু শিশু শিল্পী হিসেবে আশা-পারেখ যে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তার সবকটি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর হতাশ হয়ে অভিনয় জগত থেকে চলে যান তিনি। এরপর ১৬ বছর বয়সে তিনি আবারো ফিরে আসেন।

এই সময় পরিচালক বিজয় ভট্টের মনে হয়েছিল আশার মধ্যে নায়িকা হওয়ার কোন গুণ নেই। তাই তার জায়গায় অন্য এক নায়িকা কে পরবর্তী ছবির জন্য সিলেক্ট করেন তিনি। এই ছবির জন্য রিজেক্ট হওয়ার পরে পরিচালক সুবোধ মুখোপাধ্যায়ের দিল দেখে দেখো ছবির জন্য ডাক আসে আশা পারেখের কাছে। ১৯৫৯ সালের এই ছবিতে অভিনয় তার বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পায়ের তলার মাটি অনেকটাই শক্ত করে দিতে সাহায্য করেছিল।

৬০-৭০ এর দশকে বেশ কয়েকটি পর পর জনপ্রিয় ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তিসরি মঞ্জিল থেকে শুরু করে, লাভ ইন টোকিও প্রত্যেকটি ছবি ছিল আশা-পারেখের ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই তার ইমেজ তৈরি হয়েছিল একজন গ্ল্যামার গার্ল হিসেবে। তবে দো বদন থেকে শুরু করে চিরাগ,ম্যা তুলসী প্রভৃতি ছবিতে এই চিরাচরিত ইমেজ ভেঙে দেন নায়িকা। পরিচালক শক্তি সামন্তের কাটি পতঙ্গ ছবিতে তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।

হিন্দি ছাড়াও বেশ কিছু কন্নড়, পাঞ্জাবি এবং গুজরাটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন আশা। কাটি পতঙ্গ ছবিতে অভিনয়ের পর আসা নাচের দল নিয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। এই সময় বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কিছুটা হলেও নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলেন অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে তার কাছে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার অফার কমতে থাকে। কয়েকটি পার্শ্ব চরিত্রেও শেষের দিকে দেখা গিয়েছিল তাকে। শেষমেষ অভিনয় ছেড়ে তিনি চলে আসেন দূরদর্শনের সিরিয়াল পরিচালনায়।

১৯৯৪ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আশা পারেখ ছিলেন সিনে এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন সেন্সর বোর্ডের চেয়ারপার্সন। একজন মহিলা হিসেবে তিনিই প্রথম এই দায়িত্ব পান। ব্যক্তিগত জীবনে পদ্মশ্রী থেকে শুরু করে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার পর্যন্ত পেয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তবে এই সবকিছুর মাঝেই একটি প্রশ্ন থেকে যায় যে তিনি বিয়ে কেন করলেন না?

অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন কখনো কেউ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়নি। তবে দীর্ঘদিন যে ভালবাসার সম্পর্কে তিনি ছিলেন সে কথা কিন্তু বরাবর থেকেই স্বীকার করে এসেছেন আশা পারেখ। যদিও কখনো সেই মানুষের পরিচয় তিনি দেননি। পরে নিজের স্মৃতি কথায় পরিচালক নাসির হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দুই পরিবারের সম্পর্কের কথা ভেবে কখনোই কিন্তু এই দুই ব্যক্তিত্ব বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি। কারন পরিচালক তথা চিত্রনাট্যকার নাসির হোসেন ছিলেন বিবাহিত।

শেষ জীবনে কখনোই তিনি আর নাসির হোসেনের সঙ্গে দেখা করেননি। তবে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন ২০০২ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ফোনে যোগাযোগ ছিল। যদিও বিয়ে না করায় বিন্দুমাত্র আফসোস নেই আশা পারেখের। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বেশ রয়েছেন একসময়ের এই জনপ্রিয় নায়িকা। ওয়াহিদা রহমান এবং হেলেন আশা পারেখের ঘনিষ্ট বান্ধবী। বিগত কয়েক সময় ধরেই রয়েছে তাদের মধ্যে একেবারে অটুট বন্ধুত্ব। এখন বর্তমান সময়ে তার জীবনের বেশিরভাগ অংশটাই কেটে যায় ডান্স একাডেমী এবং সমাজসেবার কাজ নিয়ে। জগতের বাইরে নিজের পছন্দের জীবন নিয়ে এখন অনেকটাই ভালো রয়েছেন আশা পারেখ।

Back to top button