রুটি বা পরোটার সাথে লাগবে অসাধারণ! খুব সহজ এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানিয়ে দেখুন নিরামিষ আচারি কুমড়োর রেসিপি!

নিজস্ব প্রতিবেদন:- কথাতেই রয়েছে ভোজন রসিক বাঙালি। প্রতিনিয়ত তাই একঘেয়ে স্বাদের রান্না খেতে কিন্তু কোন মানুষই পছন্দ করেনা। মাঝেসাঝেই তাই কিন্তু স্বাদের পরিবর্তন করা দরকার। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চলেছি আচারী কুমড়োর রেসিপি। এই রান্নাটি কিন্তু সম্পূর্ণ নিরামিষ তবে ভীষণ রকমের মুখরোচক খেতে। রুটি বা পরোটা যে কোন কিছু সাথে কিন্তু আপনারা এই তরকারি খুব সহজেই পরিবেশন করতে পারবেন। চলুন তাহলে আর দেরি না করে কিভাবে এই রেসিপিটি তৈরি করবেন সেটা জেনে নেওয়া যাক।

  • আচারি কুমড়ো তৈরির পদ্ধতি:

১) রান্নাটি শুরু করার জন্য আপনাদের প্রথমেই একটি কড়াই এর মধ্যে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ সরষের তেল নিয়ে নিতে হবে। তেল গরম হতে শুরু করলে এর মধ্যে এক মুঠো মতন চিনেবাদাম দিয়ে ভেজে তুলে নিন।

এই তেলের মধ্যে আপনাদের দিয়ে দিতে হবে দুটি তেজপাতা, হাফ চামচ পাঁচফোড়ন ও একটি শুকনো লাল লঙ্কা।কয়েক সেকেন্ড এই সমস্ত উপকরণ গুলিকে নাড়াচাড়া করে নিয়ে এর মধ্যে আপনাদের আদা রসুন বাটা দিয়ে দিতে হবে। এরপর এর মধ্যে সামান্য হিং যোগ করে নাড়াচাড়া করুন আরো ভালো করে। তারপর কিছুক্ষণ বাদে এরমধ্যে যোগ করে দিন কোয়ার্টার চামচ হলুদ গুঁড়ো, হাফ চামচ লাল লঙ্কার গুঁড়ো, এক চামচ কাশ্মীরি লাল লঙ্কার গুঁড়ো, হাফ চামচ ধনে গুঁড়ো এবং এক চামচ জিরা গুঁড়ো।

গ্যাসের ফ্লেম অন করে দিয়ে এবার আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে কিছুটা পরিমাণে জল। যাতে গুঁড়ো মসলা না পুড়ে যায় সেই কারণে জল ব্যবহার করা হলো। এবার মিডিয়াম ফ্ল্যেমে তিন থেকে চার মিনিট আপনাদের মসলা কষিয়ে নিতে হবে। মশলা কষানোর সময় এর মধ্যে আপনাদের যোগ করে দিতে হবে এক টেবিল চামচ কচুরি মেথি। রান্নার এই পর্যায়ে কসুরি মেথি যোগ করলে একটা দারুণ ফ্লেভার তৈরি হয়।

২) খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে আপনাদেরকে মসলা ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। দুই থেকে তিন মিনিট এভাবে রান্না করার পর আপনাদের এর মধ্যে কুমড়ো যোগ করে দিতে হবে। কুমড়ো আর মসলাকে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই সময় স্বাদ মতন লবন দিয়ে দিন। যদি লবণ দিয়ে কষিয়ে নেন তাহলে কিন্তু কুমড়ো তাড়াতাড়ি গলে যাবে। এবার কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে আপনাদের ঢাকা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। তাহলে কুমড়ো তাড়াতাড়ি গলে যাবে।

৩) ঢাকা দিয়ে রান্না করলেও আপনাদের কিন্তু তিন থেকে চার মিনিট অন্তর ঢাকনা খুলে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। এভাবে নাড়াচাড়া না করলে কিন্তু তলা ধরে যেতে পারে। মোটামুটি ৭ থেকে ৮ মিনিট এভাবে রান্না করলেই কুমড়ো বেশ সেদ্ধ হয়ে আসবে। এই পর্যায়ে মাঝারি সাইজের একটি টমেটোকে টুকরো করে কেটে এতে দিয়ে দিন। আগে থেকে কিন্তু টমেটো দেবেন না তাহলে সেদ্ধ হতে দেরি হবে।

কুমড়ো সেদ্ধ হয়ে এলে নাড়াচাড়া করে এর মধ্যে মিশিয়ে দিতে হবে সেই প্রথমে ভেজে রাখা চিনেবাদাম। আবারো তিন থেকে চার মিনিট আপনাকে এটাকে ঢাকা দিয়ে ভালো করে মজিয়ে নিতে হবে। আপনারা নিজেরাই দেখবেন টমেটো কি সুন্দর সেদ্ধ হয়ে গলে যাবে।

এরপর একটি গ্রেটারের সাহায্যে গুড় গ্রেট করে নিয়ে এখানে যোগ করে দিতে হবে। আপনারা বিকল্প হিসেবে চিনি ও ব্যবহার করতে পারেন তবে গুড় দিলে কিন্তু রান্নার স্বাদ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। গুড় মিশানোর পর আরো একবার ভালো করে নাড়াচাড়া করে এর মধ্যে যোগ করে দিন আমচুর পাউডার।

আমচুর পাউডার না থাকে সেক্ষেত্রে এক চামচ চাট মসলা দিয়ে দেবেন। ভালো করে সমস্ত কিছু মিশিয়ে নেওয়ার পরে এবার আপনাদের যোগ করে দিতে হবে ধনেপাতা কুচি। ব্যস গরম গরম রুটি বা পরোটার সাথে পরিবেশন করে দিন আচারী কুমড়োর এই অসাধারণ রেসিপি।

Back to top button