আইসিএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন ৯৫ শতাংশ নম্বর! মেয়ে ঐশীর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ফাঁস শ্রীলেখার

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন অত্যন্ত পরিচিত মুখ হলেন শ্রীলেখা মিত্র। ৯০ এর দশকের শেষের দিক থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন তিনি। বেশ কয়েকটি সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করেন শ্রীলেখা। তবে নানান কারণে ধীরে ধীরে অভিনয় জগত থেকে দূরে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। বর্তমানে ক্যামেরার সামনে সবিশেষ অভিনয় না করলেও সঞ্চালনা থেকে শুরু করে ফটোশুটের সঙ্গে কিন্তু জড়িয়ে রয়েছেন নায়িকা।

সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি অত্যন্ত বেশি রকমের সক্রিয়। প্রায় সময় বিভিন্ন ছবি বা ভিডিও শেয়ার করে কটাক্ষের মুখে পড়ে থাকেন অভিনেত্রী। অনেকেই হয়তো জানেন না ব্যক্তিগত জীবনে শ্রীলেখার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে যার নাম ঐশী সান্যাল। সম্প্রতি কিছুদিন আগেই অভিনেত্রীর মেয়ে আইসিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল যার রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে। ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে রীতিমতন তাক লাগানো রেজাল্ট করেছিল ঐশী।

সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার এত দারুন নম্বর পেয়েও কোনো রকমের গতানুগতিক জায়গা যেমন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়না শ্রীলেখা মিত্রের এই মেয়ে। জানা যাচ্ছে কলা বিভাগের গুরু গম্ভীর বিষয় নিয়েই নিজের পড়াশোনা এগোতে চায় সে। এমনকি জীবনে পরবর্তীতে সে কি হতে চায় সেটা নিয়েও একটি আশ্চর্যজনক তথ্য সকলের সামনে উঠে এসেছে।শ্রীলেখা জানিয়েছেন, মেয়ের ইচ্ছা সে পরবর্তীকালে সিনেমা পরিচালনা করবে।

তবে এতে মা কিংবা বাবার ইচ্ছার কোনো ব্যাপার নেই। এটি মূলত ঐশী চায়। আর মেয়ে যা চায়, মা-বাবারও তাতে সায় আছে। সে যাই হতে চায় না কেন, পরিবারের পুরোপুরি সমর্থন পাবে। জানিয়ে রাখি অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর শ্রীলেখা মিত্র নিজেও পরিচালনার কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই দুটি শর্ট ফিল্ম তৈরি করার কাজ শুরু করেছেন তিনি যার একটি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।

নিজের মেয়ের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শ্রীলেখা বলেন যে তার মেয়ে সব সময় কিন্তু তার কাজের সমালোচনা করে। শুধুমাত্র তাই নয় ঐশী নাকি এই বয়সেই তার কাজ জানার এবং বোঝার সমস্ত রকমের চেষ্টা করে থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য শ্রীলেখা মিত্রের বাবা এবং মা দুজনেই প্রয়াত হয়েছেন। অন্যদিকে বহু বছর আগেই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে অভিনেত্রীর। আপাতত কলকাতার একটি বিলাসবহুল বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে একাই থাকেন নায়িকা।

তবে বিচ্ছেদের পরেও কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে শ্রীলেখার। ঐশী নিজেও মা বাবার কাছে ভাগাভাগি করে থাকে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি,বিবাহবিচ্ছেদের পর কোপ্যারেন্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী ও তার প্রাক্তন স্বামী। যাতে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের কোনো রকম অসুবিধা না হয় সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা।

এই কাজে যে তারা সফল হয়েছেন একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ঐশীর পরীক্ষার ফলাফল থেকে শুরু করে তার ভাবনা-চিন্তা সবকিছুই কিন্তু একজন আদর্শ ছাত্রীর নিদর্শন। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী রীতিমতো জানিয়েছিলেন যে তার মেয়েই এখন তার বাবা-মায়ের জায়গা দখল করে রেখেছে।

সম্প্রতি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরে মেয়ের প্রাপ্ত নম্বরের কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। যদিও পরে মেয়ের হুকুমে সেই পোস্ট ডিলিট করে দিতে হয় তাকে। আসলে শ্রীলেখার কন্যা নাকি আরো বেশি নম্বর আশা করেছিল সেই কারণে মনমরা হয়ে পড়েছিল। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই শ্রীলেখা লেখেন,“আগের পোস্টটা আর্কাইভ করলাম মেয়ের হুকুমে। আরও বেশি আশা করেছিল। কোনও কিছুতেই এরা খুশি নয়। আমি হলে তো ধেই ধেই করে নাচতাম এত নম্বর পেয়ে…।”

Back to top button