সন্তানকে এই কয়েকটি নিয়ম মেনে দিন শিক্ষা, সন্তান হবে মানুষের মতো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদন: সন্তান জন্মের পর থেকেই কিন্তু তার লালন-পালন থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তায় ভুগে থাকেন অভিভাবকেরা। কিভাবে বাচ্চা সঠিক শিক্ষা পাবে এবং বড় হয়ে উঠবে সেটাই তখন প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটু বড় হলেই কিন্তু বাচ্চারা অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে বা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে অনেকেই কিন্তু তাদেরকে নানান রকম ভাবে বকাঝকা করে থাকেন বা দোষ দিয়ে থাকেন।

তবে সেগুলি করার আগে আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে হয়তো আপনাদের প্রতিপালনেই রয়েছে কোন ভুল! আসলে সর্বদাই যে আমরা বাচ্চাকে শিক্ষা দিতে চাইবো সেটা সে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে এ কথা কিন্তু আমরা ভালো করে ভেবে দেখি না। তাই ভবিষ্যতে তা নিয়ে প্রচুর পরিমাণে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় পিতা-মাতাদের।

আজকাল অল্প বয়স থেকেই কিন্তু দেখবেন ছোট ছোট শিশুরা অভিভাবকদের কাছে নানান ধরনের জিনিস কেনাকাটা নিয়ে অশান্তি করছে অথবা টাকা-পয়সা নিয়ে। অভিভাবকেরাও কিন্তু বাচ্চাদের এই কাজগুলিতে একটু কান্নাকাটি করলেই সমর্থন দিয়ে থাকেন। যেগুলি করা একেবারেই উচিত নয়। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা জেনে নেব যে কিভাবে আপনার শিশুকে আপনারা আদর্শ ভাবে বড় করে তুলতে পারবেন।

শিশুকে আদর্শবান করে তোলার উপায়:

১) বাচ্চাদের প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিস দিন :

বাচ্চারা কিন্তু অনেক সময় অনেক জিনিস চেয়ে থাকে অভিভাবকদের কাছে। তারা যখন যা চাইবে সেটাই কিন্তু তাদেরকে দিয়ে দেবেন না। প্রয়োজনে না বলতে শিখুন। কান্না থামাবার জন্য অনেকেই ছোটবেলা থেকে কিন্তু শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট তুলে দিয়ে থাকে। এই ভুলটা কখনোই করবেন না। চাইলে সব জিনিস পাওয়া যায় না এই স্পষ্ট কথাটা বাচ্চাদের বোঝাতে শিখুন।

২) শিষ্ঠাচার শিক্ষা:

বাচ্চাদের কিন্তু এই শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত বিশেষ রকমের প্রয়োজনীয়। ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে কথা বলা এবং মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করার আদব-কায়দা কিন্তু ভালোভাবে শেখাতে হবে।স্যরি বা থ্যাংক ইউ বলা, অন্যকে সাহায্য করা, কাউকে ব্যাঙ্গ না করা, মিথ্যা না বলা, অন্যের ক্ষতি না করা, গালাগাল না করা ইত্যাদি।

চেষ্টা করবেন বাচ্চাদের সামনে এই ব্যাপারগুলি বারবার করার। অর্থাৎ যদি আপনি দোষ করে থাকেন সেক্ষেত্রে ক্ষমা চাইতে শিখুন। শিশুদের সামনে কিন্তু ভুল করেও অপরকে গালাগালি করা বা ক্ষতি করার কথা বলবেন না। বাচ্চারা যে কোন জিনিস অনুকরণ করেই শিখে থাকে। সুতরাং আপনি যে কাজগুলি করবেন সেগুলির প্রভাব কিন্তু আপনার শিশুর উপরেও পড়বে।

৩) দান করতে শেখান:

যদি আপনার সামর্থ্য থাকে তাহলে অবশ্যই কিন্তু বাচ্চাদের দান করা শেখাতে পারেন। বাড়িতে এমন কোন অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেগুলো হয়তো আপনাদের আর প্রয়োজন নেই কিন্তু অন্য মানুষের কাজে লাগতে পারে,সেগুলিও বাচ্চাদের হাত দিয়ে আপনারা দান করা শেখাতে পারেন। বাচ্চাদের সহৃদয় হওয়াটা কিন্তু ভীষণভাবে প্রয়োজন। পাশাপাশি আপনাদের এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে বাচ্চারা যেন কোনরকম অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে টাকা নষ্ট না করে।

৪) ভালো মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক:

চেষ্টা করুন আপনার বাচ্চা যেন ছোটবেলা থেকেই কোন রকমের খারাপ সঙ্গে না পড়ে যায়। এটা কিন্তু বাচ্চাদের পক্ষে অত্যন্ত বেশি রকমের ক্ষতিকারক। যদি আপনারাও এমন কোন পরিবারের সঙ্গে মেলামেশা করেন যারা অপ্রয়োজনে বাচ্চাদের কোন জিনিস কিনে দিচ্ছে বা সঠিকভাবে মানুষ করছে না সেক্ষেত্রে কিন্তু এগুলি দেখার পর আপনার বাচ্চার উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। সুতরাং এরকম আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের থেকে সতর্ক থাকুন। যাতে আপনার বাচ্চার বিকাশে কোন রকমের সমস্যা না হয়।

৫) শিশুর প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করুন:

বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বা তাদেরকে নিয়ে খেলাধুলা করে তাদের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করুন। ভুল করেও কিন্তু জিনিসপত্র কেনাকাটার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করতে যাবেন না। বাচ্চারা ভালো কোন কাজ করলে তাদেরকে আকাঙ্ক্ষিত উপহার দিতে পারেন তবে সেটা যেন কখনোই লিমিটের বাইরে না হয়। পুরোটাই নির্ভর করবে অভিভাবকের সামর্থের উপর। কারণ সামর্থ্যের বাইরে যদি আপনারা বাচ্চাদেরকে জিনিস দিতে শুরু করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা তাদের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যাবে।

৬) বাচ্চাকে চেষ্টা করতে দিন:

জীবনের পথে সবাইকেই ঠেকে ঠেকে শিখতে হয়। আপনার বাচ্চাদেরকেও শিখতে হবে। নিজের জীবনের পথে নিজেকে চলে চলে শিখতে দিন। আপনার বাচ্চা পড়ে গেলে যেন নিজেই উঠে দাঁড়াতে শিখতে পারে। এর জন্য তাকে কিন্তু আপনারা সব সময় সাহায্য করবেন না। তাহলে জীবনে চলে আসা সমস্ত বিপদের সঙ্গে আপনার শিশু কিন্তু সঠিক ভাবে লড়াই করতে শিখবে না। পরামর্শ দিতেই পারেন তবে তার লড়াইতে আপনাদের হস্তক্ষেপ না করাই ভালো।

৭) অন্যদেরকে বলুন:

শুধুমাত্র নিজেকে নয় আপনাদের কিন্তু আশেপাশের আত্মীয়-স্বজন বা বাড়ির সদস্যদের আচরণের উপরেও নজর রাখতে হবে। বাচ্চাদের আদর্শ ভাবে মানুষ করতে চাইলে তাদেরকেও জানিয়ে রাখুন যে বাচ্চা দোষ বা ভুল করলে তাকে প্রয়োজনে শাসন করতে বা সঠিক শিক্ষা দিতে। অভিভাবকদের মতন তারাও যেন প্রয়োজনের তুলনায় কোন জিনিস দিয়ে বাচ্চাদেরকে প্রলোভন না দেখান বা তাদেরকে মাথায় না তোলেন। এতেও কিন্তু আপনার শিশুর উপরে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। কারণ শুধুমাত্র পিতা-মাতাকে কেন্দ্র করে পরিবার কিন্তু হয় না।তাই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাচ্চাদের সঙ্গে কি ব্যবহার করছে সেটাও দেখতে হবে।

৮) শিশুকে বিশ্বাস করুন:

শিশুকে আপনাদের বিশ্বাস করা এবং তাদের কোন কাজ দিলে তাদের উপরে আপনাদের ভরসা করা শিখতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার শিশুর উপরে যদি আপনি বিশ্বাস রাখতে না পারেন সে ক্ষেত্রে কিন্তু ধীরে ধীরে তার মন অন্যদিকে চলে যেতে পারে। শিশুকে নিয়মিত আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী অথবা শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী পকেট মানি দেবেন এবং চেষ্টা করবেন যে তারা যেন সেই পকেট মানি অনুযায়ী কিভাবে চলতে পারে সেটা তাদেরকে সঠিকভাবে শেখানো যায়।

৯) নিজের পরিশ্রমের কথা জানান:

শিশুকে সবসময় নিজের পরিশ্রমের কথা বা কষ্টের কথা আপনারা শেয়ার করবেন। আপনি কিভাবে কষ্ট করে অর্থ উপার্জন করেন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জিনিস শিশুর সঙ্গে গল্প করুন। তাদের মধ্যে একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে যে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করা উচিত নয় বা প্রয়োজনের বাইরে কোন জিনিস কেনা উচিত নয়।

Back to top button