বাড়ির সকলের খেলেই হবে পছন্দ! একবার এই সহজ দুর্দান্ত উপায়ে বানিয়ে দেখুন কাতলা কালিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন: মাছের কালিয়া এমন একটি খাবার যা কমবেশি সকলেই খেতে অত্যন্ত পছন্দ করে থাকেন। অনেকেরই ধারণা রয়েছে কালিয়া আদ্যোপান্ত একটি বাঙালি খাবার। তবে তা কিন্তু একেবারেই নয়। দেশের অনেক অংশের মানুষ কালিয়া খেতে কিন্তু অত্যন্ত পছন্দ করে থাকেন এবং নানান রকম ভাবে কিন্তু কালিয়া রেসিপি তৈরি করা হয়।। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে চলেছি কাতলা মাছের কালিয়ার রেসিপি। খুব সহজ পদ্ধতিতে আপনারা এটা বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারবেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। উৎসবের দিনগুলিতে একটু স্বাদে পরিবর্তন করার জন্য এটা তৈরি করে নিতে পারবেন। চলুন তাহলে সময় নষ্ট না করে রেসিপিটি শুরু করা যাক।

কাতলা মাছের কালিয়ার রেসিপি:

১) কাতলা মাছের কালিয়া তৈরি করার জন্য আপনাদের মিঠা জলের কাতলা মাছ মোটামুটি ৬০০ গ্রাম পরিমাণে নিয়ে নিতে হবে। চাইলে আপনারা রুই অথবা চিতল মাছের পেটিও ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমেই ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নেওয়ার পর মাছগুলোর মধ্যে সামান্য পরিমাণে নুন আর হলুদ মাখিয়ে নিতে হবে। এবার আপনাদের নির্দিষ্ট পরিমাণে কিছুটা পেঁয়াজ নিতে হবে ।এর মধ্যে বেরেস্তা বানানোর জন্য কিছুটা পেঁয়াজ কুচিয়ে নিন। বাকি পেঁয়াজ আপনাদের আদার সঙ্গে বাটতে হবে।

পেঁয়াজের মতন একই রকম ভাবে আদা কেও কুচিয়ে নিন। পেঁয়াজ আর আদার একটা মিহি পেস্ট তৈরি করে নেবেন এরপর। একটু টকভাব আনার জন্য মোটামুটি ৩০ গ্রাম পরিমাণ টমেটো নিয়ে তা ছোট টুকরো করে নিতে হবে। এছাড়াও আপনাদের দিতে হবে দই, তবে যদি কেউ টমেটো ব্যবহার করতে না চান সে ক্ষেত্রে দইটা বেশি পরিমাণে দেবেন। মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয়টা কাঁচা লঙ্কা কুচিয়ে নেবেন।

মাছের কালিয়া রান্না করার সময় এই রান্নায় কিসমিস দিতে হয়। এরপর কিছুটা পরিমাণ টক দই নিয়ে ফেটিয়ে নিন। চেষ্টা করবেন আগে থেকেই গুঁড়ো মসলাগুলো এক জায়গায় করে রাখার যাতে রান্নার সময় কোন সমস্যা না হয়। আপনাদের নিয়ে নিতে হবে মোটামুটি ৬ গ্রাম পরিমাণ হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো ৪ গ্রাম, লাল লঙ্কার গুঁড়ো ২ গ্রাম এবং কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ৬ গ্রাম।

২) গ্যাসে একটি কড়াই বসিয়ে মোটামুটি পরিমাণ মতন সরষের তেল নিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর আঁচ কমিয়ে আপনাদের বেরেস্তার জন্য কেটে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিতে হবে। মোটামুটি হালকা বাদামি রং ধরলেই এটাকে তুলে নেবেন। ওই একই তেলের মধ্যে এবারে মাছগুলোকে বেশ কড়া করে ভেজে তুলে রাখুন। মাছগুলোকে তুলে নেওয়ার পর ওই তেলের মধ্যে কিছুটা ঘি মিশিয়ে নিন। ৪টে শুকনো লঙ্কা,৪ টে তেজপাতা, চারটে এলাচ, দুটো দারচিনি এবং চারটে লবঙ্গ এর মধ্যে দিয়ে দিন।

এছাড়াও আপনাদেরকে এই ফোড়নে যোগ করতে হবে এক চা চামচ পরিমাণ সাদা জিরে। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করার পর এর মধ্যে পেঁয়াজ আর আদা বাটা দিয়ে দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না মসলা থেকে তেল ছেড়ে আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো করে ভেজে নিন। এবার আগে যে গুঁড়ো মসলাগুলো এক জায়গায় করে রেখেছিলেন সেগুলো দিয়ে হালকা গরম জল দিয়ে কষিয়ে নিন।

৩) যতক্ষণ পর্যন্ত না মসলার কাচা গন্ধ চলে যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত জল দিয়ে আপনাদেরকে কষিয়ে নিতে হবে। এবার কিছুটা পরিমাণ লবণ আর স্বাদমতো চিনি যোগ করে দিন। যদি আপনারা কালিয়া তৈরি করতে টমেটোর ব্যবহার করেন তাহলে রান্নার এই পর্যায়ে দিয়ে দিতে হবে। যখন দেখবেন আবার তেল ছাড়তে শুরু করেছে তখন দইটা ফেটিয়ে মসলার সঙ্গে খুব ভালো করে মিশিয়ে নেবেন।

এরপর কিসমিস দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে নিন। ঝোলের জন্য মোটামুটি এক চতুর্থাংশ বা ৫০০ মিলি গরম জল দিয়ে দিতে হবে। ঝোল কিছুটা ফুটে উঠলে এর মধ্যে আপনাদের ভেজে রাখা কাতলা মাছগুলিকে দিয়ে দিতে হবে।। উপরে বেরেস্তা আর কাঁচালঙ্কা গুলোকে ভালো করে ছড়িয়ে দিন। খুব হালকা করে নাড়াচাড়া করুন। সবশেষে কিছুক্ষণ ঢাকনা চাপা দিয়ে আপনাদেরকে রান্না টাকে হালকা ফুটিয়ে নিতে হবে যাতে এটা আরেকটু ঘন হয়ে যায়।

Back to top button