তীব্র গরমেও বাড়িতেই খুব সহজ এই ৩টি পদ্ধতিতে বানিয়ে ফেলুন দই, খেতে লাগবে হুবহু দোকানের মতো!

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমিষ বা নিরামিষ শেষ পাতে দই থাকলে কিন্তু খাবার একেবারেই জমে যায়। অনেকেই আজকাল কিন্তু বাজারের তৈরি দই খেতে পছন্দ করেন না। বিশেষ করে করোনা আবহের পর থেকে অনেকেই ছোটখাটো জিনিসের জন্যেও ঘরোয়া উপায় ট্রাই করছেন। তবে দই বহুদিন ধরেই কিন্তু বহু মানুষ বাড়িতে পেতে থাকেন।

বে বহু গৃহিণীদের অভিযোগ হাজারো চেষ্টা পরেও পারফেক্ট ভাবে কিন্তু এই দই তৈরি হয় না। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের উদ্দেশ্যে দই পাতানোর জন্য তিনটি পদ্ধতি শেয়ার করে নিতে চলেছি। এই তিনটি পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করে যেকেউ ঘরে দই পাততে পারবেন। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হল মাত্র ২ঘণ্টায় দই জমে যাবে। সুতরাং আর দেরি কেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ তিনটে পদ্ধতি।

১)ক্যাসারোলে দই বানানোর উপায়:

আপনারা হয়তো ভাবছেন সাধারণত রুটি রাখার জন্য কাজে লাগে। রুটি গরম রাখার জিনিসে কিভাবে দই তৈরি করা যেতে পারে? চেষ্টা করলে অবশ্যই সম্ভব। এই পদ্ধতিতে প্রথমেই ভালো করে দুধ ফুটিয়ে নিন।দই বানানোর জন্য সব সময় ভারী বড় পাত্র ব্যবহার করবেন দুধ ফোটানোর সময়। আর ফুল ফ্যাট দুধ নেবেন। এতে মোটা ঘন দই তৈরি হয়। ফোটানো হয়ে গেলে আপনাদের ভালো করে দুধ ঠান্ডা করে নিতে হবে। তবে সম্পূর্ণ ঠান্ডা না হয় অর্থাৎ যদি দুধের মধ্যে আঙ্গুল ডোবানো হয় তাহলে যেন হালকা গরম লাগে।

এবার ক্যাসারোলে এক চামচ তাজা দই ভালো করে চামচের সাহায্যে লাগিয়ে দিন। একদম হালকা গরম দুধ উপর থেকে এমন ভাবে ক্যাসারোলে ঢালুন যাতে ফ্যানা তৈরি হয়। এটা করার পর একটি বাটি এক হাতে নিয়ে তাতে ক্যাসারোল থেকে গরম দুধ এতে ঢালুন আবার বাটি থেকে ক্যাসারোলে ঢালুন। এই ভাবে ৪ থেকে ৫ বার করার পর ক্যাসারোলে দুধ ঢেলে ঢাকনা বন্ধ করে দিন। সবশেষে একটা মোটা তোয়ালে দিয়ে আপনাদের ক্যাসারোল ভালো করে মুড়ে দিতে হবে। ঘন্টা দুয়েক পরে ক্যাসারোল খুলে দেখবেন আপনাদের দই কত ভালোভাবে সহজেই জমে গিয়েছে।

২) প্রেসার কুকারে দই বানানোর উপায়:

যেভাবে আপনারা ক্যাসারোলে দই তৈরি করতে পারলেন ঠিক তেমনভাবেই কিন্তু প্রেসার কুকারেও এই কাজটি করা যেতে পারে। একই রকম ভাবে এই পদ্ধতিতেও প্রথমে আপনাকে ভালো করে দুধ ফুটিয়ে নিতে হবে।তারপর একটি স্টিলের মোটা বাটিতে এক চামচ দই লাগিয়ে তাতে হালকা গরম দুধ ঢেলে দিন। এবার একটি কাটা চামচ বা হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে দইয়ে ফ্যানা আনুন।

ওদিকে প্রেসার কুকার ভালো করে গরম করে গ্যাস অফ করে দিন। এবার স্টিলের বাটি খুব সাবধানে প্রেসার কুকারের মধ্যে রেখে ঢাকনা দিয়ে দিন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন এই পর্যায়ে যেন আপনাদের গ্যাস অফ থাকে। ক্যাসারোলের মতন প্রেসার কুকারটিকেও একটি মোটা তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুড়ে দুই ঘন্টা সময় পর্যন্ত রেখে দিন। ঘন্টা দুয়েক সময় পর খুলে দেখবেন কত সুন্দর মোটা ঘন দই তৈরি হয়ে গিয়েছে। খেতে কেমন লাগলো অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না।

৩) মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে দই বানানোর উপায়:

প্রথম দুটি পদ্ধতির মতন তৃতীয় পদ্ধতিতেও কিন্তু আপনাদের প্রথমে ভালো করে দুধ গরম করে নিতে হবে। তারপর আপনাদের নিয়ে নিতে হবে একটি মোটা মাটির পাত্র। এবার আপনাদের প্রি হিট দিয়ে মাইক্রোওয়েভ গরম করে নিতে হবে।মাটির পাত্রে হালকা গরম দুধ ফ্যানা তুলে রাখুন। রাখার আগে পাত্রের ভিতরে এক চামচ টাটকা দই মাখিয়ে নিতে ভুলে যাবেন না। সবশেষে এর মুখটা ফয়েল পেপার দিয়ে ভালো করে ঢেকে আগে থেকে প্রি হিট করা মাইক্রোওয়েভে এটা ভরে দরজা বন্ধ করে রাখুন।

ঘন্টা দুয়েক সময় অপেক্ষা করে এটা বের করে নিলেই কিন্তু দেখবেন কি সুন্দর ভাবে দই তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের আজকের শেয়ার করা তিনটি পদ্ধতির মধ্যে কোন পদ্ধতিটি আপনাদের সব থেকে বেশি ভালো হলো এবং সহজে সুন্দর দই তৈরি হয়ে গেল অবশ্যই কিন্তু জানাতে ভুলবেন না। মাটির ভাড়ে তো অনেকদিন দই বানিয়েছেন একবার না হয় এই নতুন পদ্ধতিগুলিও ট্রাই করে দেখুন।।

Leave a Comment