গোটা লকডাউনে রাস্তায় চট পেতে বিক্রি করেছেন সবজি! অভিনেতা সাত্যকীর জীবনের কষ্টের কথা জানলে চোখে জল আসবে আপনারও!

নিজস্ব প্রতিবেদন: টেলিভিশন দুনিয়ার বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় মুখ হলেন ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্র সাত্যকি ওরফে ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়। অনস্ক্রিন উর্মির রোমান্টিক বরকে কিন্তু সকলেরই পছন্দ। তবে অভিনেতা ঋত্বিকের অভিনয় জীবন কিন্তু এতটাও সহজ ছিল না। তার মতন সহজ এবং সাবলীল অভিনয় খুব কম অভিনেতাদের মধ্যেই দেখা যায়।

প্রতিটা মানুষের জীবনে একটা যাত্রা থাকে যে পথ ধরে তারা উন্নতি বা সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছায়। মাঝখানে থাকে অনেক অজানা কথা অনেক কষ্ট অনেক চাপা দুঃখ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমরা ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়ের জীবনের এরকমই কিছু অজানা দিকের কথা জানতে পেরেছি যা কমবেশি সকলকেই অবাক করতে বাধ্য করবে।

প্রসঙ্গত একটা মানুষকে জীবনে সফলতা পেতে হলে যে কতটা লড়াই করতে হয় ঋত্বিক মুখোপাধ্যায় হলেন তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। আপনারা হয়তো সকলেই জানলে অবাক হবেন যে বর্তমানের হাসিখুশি ঋত্বিক একটা সময় জীবনে লড়াই চালানোর জন্য সবজি বিক্রি পর্যন্ত করেছেন। নিঃসন্দেহে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যারা হয়তো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়েছেন তাদের জন্য ঋত্বিকের এই সাক্ষাৎকার একটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।

চলুন এবার প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।বেশিরভাগ মানুষ তাকে সাত্যকি নামে চিনলেও অভিনেতার আসল নাম ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখে এসেছেন নিজের বাবাকে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে। সেই থেকে তার মধ্যেও অভিনয় করার ইচ্ছা জাগ্রত হয়। কিন্তু অন্যান্য অনেক নবাগত অভিনেতার মত ইন্ডাস্ট্রিতে তিনিও কাউকে চিনতেন না। কোনরকম গডফাদার ছাড়াই টেলিভিশন জগতে পা রেখেছিলেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বাংলা থিয়েটার আর এমন জায়গায় নেই যে সেখান থেকে উপার্জন করে মানুষ নিজের সংসার চালাতে পারবে বা টাকা রোজগার করতে পারবে। কিন্তু অভিনয় এর প্রতি ভালোবাসার খাতিরে কখনোই থিয়েটার সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দেননি ঋত্বিক । অবশেষে নিজের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য শুরু করলেন পার্ট টাইম জব।

কিন্তু তাতেও যখন কুলাতে পারছেন না তখন থিয়েটার পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে এক বছর চাকরি করেছেন অভিনেতা। এক বছরের জমানো টাকা নিয়ে আবার থিয়েটারে ফিরে এসেছেন তিনি। বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরও কিছুদিন অন্তর অন্তর এই অভিনয় তাকে টানতো।লকডাউনের সময়টায় প্রবল আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা ঋত্বিক। তখন জানিয়েছিলেন প্রায় ৩৭ দিন মোবাইল একটা কোনায় পড়েছিল কারণ তিনি রিচার্জ করার পয়সা জোগাড় করতে পারেননি।

শেষের দিকে আর্থিক কষ্ট দূর করার জন্য পাড়ার মোড়ে একটা সবজির দোকান পর্যন্ত খুলে ফেলেছিলেন ঋত্বিক মুখার্জী। করোনা আবহে সেই সময়টা ছিল তার জীবনের একটা অত্যন্ত কঠিন সময়।। একটা চট পেতে মোটামুটি দশ রকমের সবজি নিয়ে সেখানে বসে বিক্রি করতেন তিনি। তবে লকডাউন শেষেই তার কাছে কাজের অফার আসতে শুরু করে। এরপর এই পথ যদি না শেষ হয় ধারাবাহিককে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।

আর এই সুযোগ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।তিনি আজও আয়নার সামনে দাঁড়ালে তার বিশ্বাস হয় না তিনি আজ এক প্রথম সারির চ্যানেলের হিরো। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সহজ আর সাবলীল অভিনয়ের দ্বারা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন সাত্যকি ওরফে ঋত্বিক মুখার্জি। এই অভিনেতাকে আপনাদের কেমন লাগে তা অবশ্যই কিন্তু কমেন্ট সেকশনে শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না।

Back to top button