“ডাক্তার বাবাকে বলেছিলেন ছ’মাসের বেশি মেয়ে বাঁচবে না!”, ক্যান্সার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মুখ খুললেন ঐন্দ্রিলা শর্মা

নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একজন অত্যন্ত পরিচিত মুখ হিসেবে আমরা যার কথা বলতে পারি তিনি হলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। তবে বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিন্তু তার একটা আলাদা জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এমনিতেই একজন সেলিব্রেটি হিসেবে তার ভক্ত সংখ্যা কম ছিল না। তবে সম্প্রতি জীবনের লড়াইতে যেভাবে জয়লাভ করে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি তার জন্য তার অনুরাগের সংখ্যা যেন এক ধাক্কাতেই কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।

এরই মাঝে সম্প্রতি নেট মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠে এসেছে ঐন্দ্রিলা শর্মার একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের ভিডিও। যেখানে নিজের জীবনের এমন কিছু দিক তুলে ধরেছেন ঐন্দ্রিলা যা বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত হতে সাহায্য করবে।চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনের মূল পর্বে যারা যাক এবং জেনে নেওয়া যাক ঐন্দ্রিলা শর্মার জীবনের কিছু অজানা গল্প।

অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা সাক্ষাৎকারের শুরুতে প্রথমেই জানিয়েছেন তিনি একটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের প্রতিটা মুহূর্তেই তিনি বাবা-মায়ের সাপোর্ট পেয়ে এসেছেন। এরপরেই তিনি জানান ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মদিনের দিন জানতে পারেন তার বোনম্যারোতে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। ঐন্দ্রিলার কথায়,“তখন আমি ক্লাস ইলেভেনে পড়ি। ওটা আমার কাছে রীতিমত শকিং ছিল। বুঝতেই পারছিলাম না আমি কিভাবে রিঅ্যাক্ট করব।

অনেকে বলে যে বয়স ম্যাচুরিটি আনে, কিন্তু আমি মনে করি মানুষের জীবনে যত আঘাত আসে তত তার মধ্যে ম্যাচুরিটি আসে। আমার ট্রিটমেন্ট শুরু হওয়ার পরে প্রথম সাতটা ইঞ্জেকশন গুনতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারপর সেটা অগুন্তির পর্যায়ে চলে যায়। আমার কিছু বন্ধুবান্ধব সেই সময় কিন্তু বরাবর পাশে ছিল। কিন্তু তার মধ্যেও কিছু জন ছিল এবং সব জায়গাতেই থাকে যারা হয়তো আমাকে এড়িয়ে গিয়েছে।

এমনকি একবার ছোটবেলায় আমাকে একটা বন্ধু পরীক্ষার খাতা দিতে এসেছিল কিন্তু সে নীচে দাঁড়িয়েই খাতাটা দিয়ে চলে যায়। যখন আমার মা তাকে উপরে আসতে বলে তখন সে জানায় তার বাড়ি থেকে নিষেধ করা হয়েছে কারণ যদি আমার বাড়িতে আসলে তারও ক্যান্সার হয়ে যায়। জিনিসগুলো আমার খারাপ লাগতো কিন্তু এগুলো আমাকে আরো স্ট্রং হতে সাহায্য করেছে”।

ঐন্দ্রিলার আরও সংযোজন, “আমি যখন রাস্তায় হাঁটতাম সেই সময় আমার কেমোথেরাপীর কারণে চুল, আইব্রো উঠে গেছিল। মানুষ এমনভাবে তাকাতো যেন আমি ভিন্ন কোন গ্রহ থেকে এসেছি। আমি তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা বলতে চাই যে যারা সাফার করছে তাদের পাশে যদি আপনারা দাঁড়াতে না পারেন,তার কষ্ট বা দুঃখের কারণও কিন্তু প্লিজ হবেন না। এমনকি সেই সময় আমার বাবাকে দিল্লি থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল আপনার মেয়েকে খুব বড়জোর ছয় মাস আমরা বাঁচাতে পারবো।

কিন্তু সেই সময় টানা দেড় বছর ট্রিটমেন্ট হবার পরে অনেক কেমোথেরাপি আর অনেক রেডিয়েশন এর পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি 2016 সালে। এরপর আবারো জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরত আসি আর কাজ করতে শুরু করি। কিন্তু এই এগুলোর মাঝেই প্রায় ছয় বছর পর অর্থাৎ গত 2021 সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আবার আমার জীবনের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো ফেরত আসে। আমার ডান কাঁধে 16 ফেব্রুয়ারি থেকেই অদ্ভুত যন্ত্রণা হতে থাকে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো ঘুমোতে গিয়ে কোন রকমের অসুবিধা হয়েছে।

আমি পরের দিন শুটিং-এ গিয়ে আর কাজ শেষ করতে না পেরে বাড়ি ফিরে যাই। এরপর হাসপাতালে গিয়ে আমি জানতে পারি আমার ১৯ সেন্টিমিটার এর একটি দীর্ঘ টিউমার হয়েছে। সত্যি কথা বলতে আবার সেই নরকের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে ভেবেই আমি প্রথমে ট্রিটমেন্ট করাতে চাইনি। তখন বাবা,মা, দিদি তো পাশে ছিলই এছাড়াও সব্যসাচী আমার বন্ধু সব সময় আমার পাশে ছিল। এদের সকলের চেষ্টায় আমি ট্রিটমেন্ট করাতে রাজি হই এবং সেই লড়াইটা আরো একবার শুরু করি”।

পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি ঐন্দ্রিলা শর্মার সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি ইতিমধ্যেই নেট মাধ্যমে একটি ভাইরাল বিষয়বস্তু হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বহু চেষ্টার পরে এই লড়াই তে শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করেছিলেন তিনি। বাবা-মা এবং বন্ধু সব্যসাচী কে পাশে পেয়ে আবারো আরো একবার ক্যান্সার জয় করে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরত এসেছেন ঐন্দ্রিলা।

ঐন্দ্রিলার এই লড়াইয়ে বরাবর থেকেই ঢালের মতন পাশে থেকেছেন তার বন্ধু তথা প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরী। শুধুমাত্র তাই নয় প্রেমিকাকে নিয়ে প্রায় সময় তাকে নেট মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি পোস্ট করতে দেখা যেত। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে ঐন্দ্রিলা আর সব্যসাচীর নাম গণ্য করা হয়ে থাকে। এই জুটিকে আপনাদের কেমন লাগে তা অবশ্যই কিন্তু আমাদের জানাতে ভুলবেন না।

Back to top button