জানেন ‘কোকিলকণ্ঠী’ লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে কোন গান শুনে কেঁদে ভাসিয়েছিলেন সকল দেশবাসী? শুনুন সেই গান

নিজস্ব প্রতিবেদন: লতা মঙ্গেশকর মানেই শুধু এক সুরেলা সুমধুর কন্ঠের অধিকারীর নাম নয়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠার অদম্য ইচ্ছে থাকা এক মহিলার নাম। তিনি ভারতের নাইটেঙ্গেল। তার সুরে এখনো মুগ্ধ কয়েক প্রজন্ম। আপনারা হয়তো জানেন না লতা মঙ্গেশকরের কন্ঠে একটি গান চোখে জল এনে দিয়েছিল বড় বড় নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমজনতার। তার কন্ঠে সেই গান শুনে আবেগে ভেসেছিলেন সকল ভারতবাসী।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা সেই গান নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চলেছি। ১৯৬২ সালের ভারত চীন যুদ্ধে অসংখ্য জওয়ানের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল কবি প্রদীপের মনকে। বোম্বের এক সি বিচে হাটতে হাঁটতে হঠাৎই একটি গান লেখার কথা মাথায় আসে তার। তখনই পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি পেন চেয়ে নিয়ে ছেঁড়া সিগারেটের প্যাকেটের উপরে লিখে ফেলেন গানটির প্রথম কিছু লাইন।

কিছু সপ্তাহ পর প্রযোজক মেহেবুব খান, দিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত হওয়া একটি অনুষ্ঠানের জন্য তাকে গান লেখার অনুরোধ করেন। কবি প্রদীপ তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে যান এবং গানটি লেখার মনস্থির করেন। তবে ঠিক কি ধরনের গান তিনি লিখবেন সেই সম্পর্কে কিন্তু কিছুই জানাননি। গানটির সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনি বেছে নেন সি রামচন্দ্র কে। অন্যদিকে গানটি গাওয়ার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকরকে।

তবে তখন রামচন্দ্র বাবুর সঙ্গে লতাজির কিছু ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার কারণে, তিনি আশা জিকে সিলেক্ট করেছিলেন। তবে গীতিকার হিসেবে প্রদীপ বাবুর দাবিতে লতা জিকেই নিতে রাজি হন রামচন্দ্র। যদিও অপরদিকে লতা জিকে রাজি করানো কিন্তু বেশ কষ্টকর ছিল। সত্যি কথা বলতে একপ্রকার জোর করেই রাজি করানো হয়েছিল তাকে। লতাজি জানিয়েছিলেন রিহার্সালের সময় যদি প্রদীপবাবু ঘরে উপস্থিত থাকেন তবেই তিনি গানটি গাইবেন। এমনকি তিনি বোন আশা ভোঁসলে কে সঙ্গে নিয়ে ডুয়েট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তবে সেটা কার্যকর হয়নি।

গানটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভারত-চীন যুদ্ধ শেষে প্রায় মাস দুয়েক পর ২৬ শে জানুয়ারি ১৯৬৩ সালে অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে লতাজি সেই গানটি গাইলেন। ‘এ মেরে বতন কে লোগো’ হ্যাঁ এটাই ছিল সেই গানের নাম বা প্রথম লাইন। লতাজি গানটি গাওয়ার পর এটি প্রত্যেকটি মানুষের মুখেই ছড়িয়ে পড়ল। এই গান শুনেই মৃত জওয়ানদের কথা মনে করে দেশাত্ববোধের আবেগে ভাসলেন সকল ভারতবাসী।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ, প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধীর মত ব্যক্তিত্বরাও। ভারতের নাইটেঙ্গেলের কন্ঠে এই গানটি শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন স্বয়ং নেহেরুজি। শোনা যায় অনুষ্ঠানের ঠিক আগের দিন প্রচন্ড পেটের ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। পরেরদিন গানটি গাইবার পর যখন তিনি স্টেজের পেছনে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন মেহেবুব খান এসে জানান জওহরলাল নেহেরু তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।লতাজিকে ডেকে নেহেরুজি বলেছিলেন,“ খুব ভালো গেয়েছো তুমি।

আমার তো চোখে জল এসে গিয়েছিল”। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য লতাজির গাওয়া এই গানটি ‘বন্দেমাতরম’ থেকে শুরু করে ‘সারে জাহা সে আচ্ছা’ প্রভৃতি গানের মতোই কিন্তু বিশেষ জনপ্রিয়। প্রায় সকলেই কিন্তু আপনারা লতাজির কন্ঠে এই অসাধারণ দেশাত্মবোধের গানটি নিশ্চয়ই শুনেছেন। এই গানটি আপনাদের কেমন লাগে তা অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। পাশাপাশি আজকে এই গানের ইতিহাস জানার পর আপনাদের কোন ভাবনা থাকলে সেটাও আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারেন।

Back to top button