যেতে হবে না পার্লারে! এবার পুজোয় বাড়িতেই খুব সহজ এই দুর্দান্ত উপায়ে ঝটপট করে ফেলুন মেকআপ, লাগবে অসাধারণ সুন্দর!

নিজস্ব প্রতিবেদন: আর মাত্র সপ্তাহখানেক অপেক্ষার পরেই শুরু হয়ে যাবে বাঙালির বহু প্রতীক্ষিত উৎসব দুর্গাপুজো। ইতিমধ্যেই প্রতি মণ্ডপে চলছে প্রতিমা নিয়ে আসার প্রস্তুতি। পুজো মানেই জমিয়ে সাজগোজ, খাওয়া দাওয়া আর ঠাকুর দর্শন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু উপযুক্ত মেকআপ টিউটোরিয়ালের অভাবে সাজগোজ নিয়ে আমাদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। যারা হয়তো একেবারেই মেকআপ করতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে কিন্তু এই সমস্যাটা সবথেকে বেশি।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সাথে একটি মেকআপ টিউটোরিয়াল শেয়ার করে নিতে চলেছি যা পূজোর যেকোনো দিন কিন্তু আপনারা সকালে বা রাতের সাজে সহজেই ট্রাই করে দেখতে পারেন।। চলুন তাহলে আর সময় নষ্ট না করে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি শুরু করা যাক।

পুজো স্পেশাল মেকআপ টিউটোরিয়ালঃ

১) এই মেকআপের শুরুতেই আপনাদের ভালো করে ফেস ওয়াশ দিয়ে কিন্তু ফেস ক্লিন করে নিতে হবে। এরপর একটি পিলক মাস্ক আপনাদের ব্যবহার করে নিতে হবে। এটাকে কিন্তু আপনাদের ডেইলি ব্যবহার করা যাবে না। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে হবে। এরপর আপনাদের একটা ব্রাইটনিং সিরাম এপ্লাই করে নিতে হবে। সিরামের পর আপনাদের অ্যাপ্লাই করতে হবে ময়শ্চারাইজার।

এগুলি আপনারা কিন্তু নিজেদের স্যুটেবল কোম্পানির ব্যবহার করতে পারেন। মেকআপ করার আগে যদি ভালো করে স্কিন কেয়ার করে নেওয়া যায় তাহলে কিন্তু মেকআপ খুবই ভালো হয়। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরে আপনাদের দু থেকে তিন মিনিট ওয়েট করে প্রাইমার লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর ভালো করে প্রাইমার ত্বকে মিশে যাওয়ার পর আপনাদের লাগিয়ে নিতে হবে ফাউন্ডেশন। এই ক্ষেত্রে আপনারা সুগারের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন।

২) কনসিলার এপ্লাই করার প্রয়োজন নেই তবে যদি আপনাদের ডার্ক সার্কেল এর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে কন্সিলর এপ্লাই করতে পারেন। প্রসঙ্গত যখন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন তখন কিন্তু মুখের পাশাপাশি গলাতেও লাগিয়ে নেবেন। মুখের অবস্থা মেকাপের মতন থাকলেও গলা কালো থাকলে কিন্তু দেখতে ভালো লাগবে না। ফাউন্ডেশন এপ্লাই করার পরে আপনারা সুগারের কম্প্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন।

ব্লেন্ড করার দরকার নেই হালকা করে লাগিয়ে নিলেই হবে। ব্লেন্ড করলে কিন্তু সামান্য বেশি রকমের ড্রাই লাগতে পারে। এরপর আপনাদের করে নিতে হবে আই মেকআপ। যদি আপনি দিনের বেলার জন্য মেকআপ করছেন তাহলে কিন্তু যতটা সম্ভব আইশ্যাডো হিসেবে হালকা কালার ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

৩) আপনাদের ড্রেসের সঙ্গে মানানসই আইশ্যাডো লাগিয়ে নেওয়ার পরে ইনার কর্নারে সামান্য পরিমাণে হাইলাইটার লাগিয়ে নিতে হবে। এতে মেকআপ খুব একটা ভারি হবে না আর দেখতেও সুন্দর লাগবে। আইশ্যাডো কিন্তু আপনারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বাজারে নানান রকমের দামে পেয়ে যাবেন। এরপর ইনার থেকে আউটার কর্নারে আপনাদের কাজল এপ্লাই করে নিতে হবে।

তাইলে মেকআপ লং লাস্টিং করার জন্য আপনারা কিন্তু আইলাইনার লাগিয়ে নিতে পারেন। আইলাইনার লাগানোর জন্য অবশ্যই আউটার পার্ট থেকে সেটাকে ইনার কর্নারের দিকে টেনে নিয়ে যাবেন। কারণ ইনার কর্নার থেকে আইলাইনার পড়তে শুরু করলে কিন্তু চোখ থেকে জল বেরোতে পারে যেটা আপনাদের মেকআপ খারাপ করে তুলবে। সুগারের আইব্রো কিট দিয়ে আপনাদের আই ব্রো সেট করে নিতে হবে। মোটামুটি হালকা ভাবে তৈরি করার চেষ্টা করবেন যাতে দেখতে ন্যাচারাল লাগে।

৪) এরপর প্যাকের আইল্যাশ নিয়ে আপনাদের লাগিয়ে নিতে হবে।। এরপর নাকের উপরে আর দুই গালে আপনাদের হালকা করে ব্লাস এপ্লাই করে নিতে হবে। যে সমস্ত জায়গায় হয়তো মেকআপ একটু এদিক-ওদিক আছে সেখানে কিন্তু আপনাদের হাত দিয়ে ঠিক করে নিতে হবে। এরপর সবশেষে নাকের উপরে আর গালের পাশে আপনাদেরকে কিন্তু ভালোভাবে হাইলাইট করে নিতে হবে। এরপর পছন্দ মত লিপস্টিক লাগিয়ে নিন।

অষ্টমী— নবমী থেকে শুরু করে পূজোর যে কোনদিন আপনারা কিন্তু এই মেকআপটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। মোটামুটি অবিবাহিতরা যদি এই লুক ট্রাই করেন সেক্ষেত্রে কিন্তু চুল খোলা রাখলেই দেখতে ভালো লাগবে। যারা বিবাহিত রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে বলবো, এই মেকআপের সাথেই যদি তারা একটা ছোট্ট টিপ আর সিঁদুর পড়ে নেন তাহলে কিন্তু দারুণ লাগবে।

Back to top button