একবার খেলে ভুলবেন না স্বাদ! খুব সহজ এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানান দুর্দান্ত স্বাদের লাবড়ার রেসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদন: সম্প্রতি কয়েকদিন আগেই পেরিয়ে গিয়েছে বিজয়া দশমী। দুর্গাপুজোর আমেজ কাটতে না কাটতেই পেরোলো লক্ষ্মীপূজো। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে চলেছি লক্ষ্মীপূজোর স্পেশাল ভোগ হিসেবে লাবড়ার রেসিপি। কমবেশি অনেকেই কিন্তু এই রেসিপিটি তৈরি করতে জানেন।

তবে আজকে আমরা যেভাবে এই রেসিপি আলোচনা করব সেভাবে তৈরি করলে কিন্তু মানুষ বারবার আপনার হাতে এই রেসিপি খেতে চাইবে। কোজাগরি লক্ষী পূজো কিন্তু কম বেশি অনেকের বাড়িতেই হয়। তবে শুধুমাত্র লক্ষ্মীপূজো নয় আপনারা কিন্তু যে কোন পুজোর দিনেই ভোগ হিসেবে এই রেসিপিটি খুব সহজেই তৈরি করতে পারেন।চলুন তাহলে আর সময় নষ্ট না করে প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

লাবড়া তৈরি করার বিশেষ রেসিপি:

১) লাবড়ার সবজি তৈরি করার জন্য কিন্তু বিশেষ কোনো সবজির বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি অবশ্যই নিজের পছন্দ অনুযায়ী সবজি এখানে ব্যবহার করতে পারেন। আজকের এই রেসিপি তৈরি করতে আমরা ব্যবহার করব বরবটি, মূলো, কুমড়ো, গাঠি কচু,,বেগুন, ঝিঙে,গাজর প্রভৃতি। এর সঙ্গে আপনারা নিতে পারেন কাঁচকলা,থোড় আর কিছুটা পরিমাণ ফুলকপি। এগুলোকে আপনারা সবকিছু কেটে রেখে দেবেন। এরপর গ্যাসে একটি কড়াই বসিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সর্ষের তেল দিয়ে দিতে হবে।

তেল গরম হয়ে গেলে প্রথমেই আপনাদেরকে কিছু সবজি আলাদা করে ভেজে তুলে রাখতে হবে, এখানে  ভাজার সময় কিন্তু আপনারা লবণ ব্যবহার করবেন না। ভাজা শুরু করার পর প্রথমে বরবটি তারপর যথাক্রমে পটল, ফুলকপি, কাঁকরোল, বেগুন প্রভৃতি পরপর হালকা করে ভাজতে হবে। সমস্ত সবজি গুলি ভাজা হয়ে গেলে এর মধ্যে আরও একটু তেল দিয়ে দিন।

তারপর তেল গরম হয়ে গেলে এতে দিয়ে দিন একটা তেজপাতা, একটা শুকনো লঙ্কা এবং সামান্য একটু জিরে ফোড়ন। ফোড়ন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে যেগুলো একটু শক্ত সবজি যেমন আলু, মুলো, গাজর প্রভৃতি দিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও কাঁচকলা,থোড় এবং গাঠিকচু দিয়ে দিন। কাঁচকলা এবং থোড় একটু লবণ আর হলুদ জলে ভিজিয়ে রাখতে ভুলবেন না রান্নায় দেওয়ার আগে।

পাঁচমিশালী যে কোন সবজিতে যদি কাঁচকলা এবং থোরের মতন সবজিগুলি ব্যবহার করা হয় তাহলে কিন্তু খেতে দারুন লাগে। রান্নার এই পর্যায়ে স্বাদমতন লবণ যোগ করে দিন। এরপর লবণ দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আপনাদের রান্নাটিকে কষিয়ে নিতে হবে। মিনিট তিন চারেক এটাকে ঢাকা দিয়ে রেখে দিন যাতে নরম হয়ে আসে।

কিছুক্ষণ সবজিগুলিকে হালকা হাতে মিশিয়ে নিয়ে আপনাদের এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে আদা বাটা। আদা আর কাঁচালঙ্কা অবশ্যই একসঙ্গে বেটে নেবেন। এরপর এতে দিয়ে দিন হলুদ গুঁড়ো, হাফ চা চামচ জিরে গুঁড়ো, হাফ চা চামচ ধনে গুঁড়ো। এরপর ভালো করে মসলাগুলো সবজির সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করার দরকার নেই কারণ লাবড়ার সবজির সাথে লঙ্কার গুঁড়ো খেতে ততটা ভালো লাগে না।

এরপর আপনারা প্রথমে যে সবজিগুলো ভেজে রেখেছিলেন সেটাকে এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। সমস্ত কিছু দিয়ে একবার আবারো ভালো করে মিশিয়ে নিন। যদি আপনারা সবজিতে বেগুন ব্যবহার করে থাকেন তাহলে কিন্তু এখন দেবেন না কারণ খুব বেশি নাড়াচাড়া করলে কিন্তু বেগুন গলে যেতে পারে। ভাজা সবজিগুলো দেওয়ার পর কিছুক্ষণ আবারো ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। নির্দিষ্ট সময়ের পর ঢাকনা খুলে কিছুটা পরিমাণ জল যোগ করে দিন। দেখবেন সবজিগুলো মোটামুটি সেদ্ধ হয়ে এসছে।

এরপর মোটামুটি তিন চামচ পরিমাণ নারকেল কোড়া মিশিয়ে দিন। এবার আবারো বেশ কিছুক্ষণ আপনাদের রান্না ঠিক বসিয়ে নিতে হবে। সবশেষে ভাজা বেগুনের টুকরোগুলো এতে যোগ করে দিন। সবজি প্রায় তৈরি হয়ে আসলে এতে মোটামুটি দেড় চামচ পরিমাণ চিনি যোগ করে দিন।

তারপর সামান্য জল দিয়ে হালকা হাতে সমস্ত রান্নাটিকে আরও একবার ভালো করে আপনাদের মিশিয়ে নিতে হবে। সবশেষে রান্নাটি নামানোর আগে সামান্য ঘি মিশিয়ে নিন। যেকোনো ভোগের রান্নাতেই কিন্তু সামান্য ঘি ব্যবহার করলে দারুন খেতে লাগে। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল লাবড়ার রেসিপি।

Back to top button