বিনা জমিতে শুধুমাত্র বস্তাতেই খুব সহজ এই দুর্দান্ত উপায়ে করুন শসা চাষ, অল্পদিনেই পান গাছভর্তি শসা

নিজস্ব প্রতিবেদন: শসা খেতে কম বেশি অনেকেই কিন্তু অত্যন্ত পছন্দ করে থাকেন। বছরের যে কোন সময় আপনারা বাজারে গেলে কিন্তু শসা পেয়ে যাবেন খুব সহজেই। এই ফলের অনেক গুণাগুণ রয়েছে, তাই অনেক রোগব্যাধির সময়ও কিন্তু চিকিৎসকেরা রোগীদের শসা খাওয়ার কথা বলে থাকেন। এটি তরকারি হিসেবে ও রান্না করা যেতে পারে। শসার কার্যকারিতা বা গুনাগুন কিন্তু অনেকেরই প্রায় অজানা বলা যায়।

এই অত্যন্ত পরিচিত ফলটি আমাদের শরীরে জলশূন্যতা প্রতিরোধ, কিডনির পাথর, কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ, ওজন হ্রাস সহ একাধিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে থাকে।এছাড়াও শসার মধ্যে বিশেষ কিছু উপাদান উপস্থিত রয়েছে যেমন—ভিটামিন বি, থিয়ামিন (বি১), রাইবোফ্লাবিন (বি২), নিয়াসিন (বি৪) প্রভৃতি। এই প্রত্যেকটা উপাদানই কিন্তু মানবদেহে বিভিন্ন কাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

বেশিরভাগ মানুষ যারা বাজার থেকে শসা কিনে থাকেন তাদের বলব যে আপনারা কিন্তু খুব সহজেই বাড়িতেও এই ফল চাষ করে নিতে পারেন। যারা বাগানপ্রেমী মানুষ রয়েছেন তাদের কাছে কিন্তু এটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। চলুন তাহলে আর সময় নষ্ট না করে জেনে নেওয়া যাক কোন রকম জমি ছাড়াই বস্তায় বারো মাস শসা চাষ করার পদ্ধতি।

জমি ছাড়াই বস্তায় বারোমাস শসা চাষ করার বিশেষ পদ্ধতি:

১) প্রথমেই আপনাদের কয়েকটি সিমেন্টের বস্তা নিয়ে তার মধ্যে উপযুক্ত পরিমাণে মাটি ভরে নিতে হবে। শসা চাষ করার জন্য মাটি তৈরি করতে হলে দোয়াশ মাটি ও গোবর সার মিশিয়ে ভালো করে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নেবেন এবং সেটাকেই চাষের জন্য ব্যবহার করুন।

২) বস্তায় মাটি দেওয়ার পর আপনাদের সেগুলোকে ভালো করে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর বাজারের যে কোন নার্সারি থেকে আপনারা শসার বীজ কিনে নিয়ে আসবেন এবং সেগুলি এই মাটিতে রোপন করে দেবেন।অবশ্যই আপনারা কিন্তু কোন ভাল মানের বীজ কেনার চেষ্টা করবেন যাতে ফলন ভালো হয়। বীজগুলি যখন রোপন করবেন খেয়াল রাখবেন এগুলো যেন মাটির গভীর পর্যন্ত থাকে। মোটামুটি একটু লক্ষ্য রাখলে বুঝবেন ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যেই শসার বীজ থেকে খুব সহজেই চারা বেরিয়ে আসছে।

৩) যখন বীজ থেকে শসার চারা বেরিয়ে আসবে সেই সময় কিন্তু আপনাদেরকে উপযুক্ত পরিমাণে পরিচর্যা করতে হবে। প্রথম ১৫ থেকে ২০ দিন সূর্যের আলো, জল ও মাটি খুব ভালো করে দিতে হবে। এই সময়ে গাছের কিন্তু উপযুক্ত খাদ্য আর বাতাসের প্রয়োজন হয়ে থাকে তাই অবশ্যই আপনারা এই বিষয়ে নজর দেবেন।

৪) গাছের চারা একটু বড় হলে এখানে আপনাদের জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে ঠিকঠাক ভাবে। আপনারা বাজার থেকেই জৈব সার কিনে নিয়ে আসতে পারেন। তবে অবশ্যই দেখে নেবেন যে এই জৈব সারের মধ্যে জিঙ্ক, কপার, সালফেট, অ্যামনিয়া, সীসা, ফসফরাস সহ আরও প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান আছে কিনা! শশা গাছের ক্ষেত্রে কিন্তু এগুলো ভীষণভাবে প্রয়োজন।

৫) যখন ধীরে ধীরে শশা গাছ বড় হতে শুরু করবে তখন আপনাদের মাচার মধ্যে সুতো ও বাঁশের সাহায্যে সম্পূর্ণ গাছটা বেঁধে দিতে হবে। মনে রাখবেন শশা গাছ যতটা লতানো হবে ততটাই কিন্তু গাছ ভালো হবে। এভাবে মোটামুটি পরবর্তী কয়েকদিন আরো আপনাদের ভালো করে পরিচর্যা করতে হবে।

৬) চারা তৈরি হবার মোটামুটি ৫০ দিনের মধ্যেই গাছের সঠিক যত্ন করলে এর মধ্যে ফল চলে আসবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই ফল আপনারা বাড়িতে খেতে পারবেন অথবা বাজারজাত করতে পারবেন। তাই যারা শসা খেতে পছন্দ করেন তারা কিন্তু খুব সহজেই বাড়িতে এই পদ্ধতিতে বস্তায় এটি চাষ করে নিতে পারেন।

Back to top button