দেশভাগের সময়ে লুকিয়ে ভারতে আসা! অভিনয়ে টক্কর দিতেন অমিতাভ বচ্চনকেও! শেষ জীবনে আশ্রমের টয়লেট পরিষ্কার করে দিন কাটতো বিনোদ খাঁনার!

নিজস্ব প্রতিবেদন: বলিউড ইন্ডাস্ট্রি এর একজন অত্যন্ত পরিচিত মুখ বিনোদ খান্না। সমসাময়িক নায়কদের মধ্যে তার মতন অভিনয় দক্ষতাসম্পন্ন খুব কম তারকাই কিন্তু ছিলেন। এমনকি নিজের অভিনয় গুনে অমিতাভ বচ্চনকে পর্যন্ত টক্কর দিতেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত জীবনে অন্যান্য তারকাদের থেকে কিন্তু বিনোদ খান্নাকে অনেকটাই আলাদা বলে মনে করা হয়।

প্রসঙ্গত বলিউডের অন্যতম ক্ষমতাশালী তারকাদের মধ্যে ছিলেন তিনি। তার দুই ছেলেও কিন্তু নিজে অভিনয় গুনে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মানুষের মনে একটা বড় জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন। সম্প্রতি তার জন্মদিনে উপলক্ষে আমরা আজ এই প্রতিবেদনে জেনে নেব বিনোদ খান্নার জীবনের কিছু অজানা কথা। চলুন তাহলে আর দেরি না করে প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়া যাক।

অভিনেতা বিনোদ খান্নার বাবার ছিল জামা কাপড়ের রাসায়নিক তৈরির ব্যবসা। পেশোয়ারে বাড়ি ছিল তাদের। তবে দেশভাগের সময় ভারতে চলে আসে তার গোটা পরিবার। প্রথমদিকে মুম্বাইতে পড়াশোনা চালু হলেও পরবর্তীতে 1957 সালে তিনি দিল্লি চলে যান এবং সেখানেই পড়াশোনা শেষ করেন। কলেজে পড়ার সময় থেকেই থিয়েটারের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

পড়াশোনা শেষে দিল্লি থেকে মুম্বাই চলে আসেন তিনি। এই সময় অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে তার বাড়ি থেকে বছর দুয়েক সময় দেওয়া হয়। বেশ কিছুদিন চেষ্টা করার পরে ১৯৬৮ সালে ‘মন কা মীত’ ছবিতে সুযোগ পান। প্রথম ছবিতে ছিলেন খলনায়কের চরিত্রে। এর পর একে একে ‘আন মিলো সজনা’, ‘পূরব অউর পশ্চিম’, ‘মেরা গাঁও, মেরা দেশ’, ‘সচ্চা ঝুটা’, ‘মস্তানা’র মতো বেশ কিছু ছবিতে কাজ করতে দেখা যায় তাকে।

তবে ১৯৭১ সালে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।’হাম তুম অউর ওহ্‌’ ছবিতে প্রথমবার মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ইন্ডাস্ট্রিতে আসার অনেক আগেই থিয়েটার করতে গিয়ে গীতাঞ্জলির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল বিনোদ খান্নার। তাদের দুই সন্তান রয়েছে অক্ষয় খান্না এবং রাহুল খান্না। এমনকি একটা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শামিল হয়েছিলেন এই অভিনেতা।

কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েন তিনি। কিছুদিন চরম একাকিত্বে ভোগার পরে সন্ন্যাস নিয়ে আমেরিকায় ওশোর আশ্রমে চলে যান।জানা যায় সেই আশ্রমের টয়লেট পরিষ্কারের কাজ পর্যন্ত করেছেন বিনোদ।এই সময়ই তার সঙ্গে স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তবে কিছুদিন পরে পরিস্থিতির স্বাভাবিক হলে আমেরিকা থেকে ভারতে ফিরে আসেন তিনি এবং ১৯৯০ সালে কবিতাকে বিয়ে করেন।। দ্বিতীয় বিবাহের পর তার এক ছেলে এবং এক মেয়ে জন্ম নেয়।

নিজের অভিনয় কেরিয়ারে প্রায় ১৫০ টি ছবিতে অভিনয় করেছেন বিনোদ খান্না। কিন্তু ভারতে ফেরার কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তিনি তার রোগ লুকিয়ে রেখেছিলেন। তার মেয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে বিনোদ খান্নার এই রোগ ধরা পড়ে। এরপর জার্মানিতে তার চিকিৎসা শুরু হয়। 2010 সালে সালমান খান অভিনীত সুপার হিট ছবি দবঙ্গে অভিনেতার বাবার চরিত্র দেখা গিয়েছিল বিনোদ খান্না কে।

পরবর্তীতে বিনোদ খান্না মারা যাওয়ার পরে তার ভাই প্রমোদ খান্না ওই চরিত্রে অভিনয় করেন। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এটাই ছিল বিনোদ খান্না অভিনীত শেষ ছবি।বিনোদ খান্না সম্পর্কিত আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন আপনাদের কেমন লাগলো তা জানাতে কিন্তু অবশ্যই ভুলবেন না। বিনোদন জগত সম্পর্কিত সমস্ত ধরনের আপডেট পেতে চাইলে আমাদের অন্যান্য প্রতিবেদন গুলির উপর নজর রাখতে থাকুন।

Back to top button