সারাজীবন রইলেন চিরকুমারী! মহানায়ক উত্তম কুমারকে বিয়ে নিয়ে আসল সত্যি ফাঁস করলেন সাবিত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন: সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রি তে একটি ইতিহাসের নাম, যে ইতিহাস আজও স্বমহিমায় জীবিত। তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন বহু যুগ হয়ে গেল। বাংলা সিনেমার কত ভাঙ্গা এবং গড়ার সাক্ষী তিনি। তাকে নিয়ে কিন্তু গুজব কম ওঠেনি। ইন্ডাস্ট্রির আনাচে-কানাচে কান পাতলে আজও উত্তম কুমারের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা শোনা যায়। তবে এটা যে শুধুমাত্র গুজব নয় এ কথা কিন্তু পরবর্তীতে একসময় অভিনেত্রী নিজেই কিছুটা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তবে কি সত্যিই উত্তম কুমার এবং সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে ছিল কোন সম্পর্ক!

আদৌ কি তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল গোপনে! আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা সাবিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের এই অজানা দিক নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। তাই জানতে হলে অবশ্যই আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন। বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। তারা দশ ভাইবোন ছিলেন। জীবনে কখনো প্রথমদিকে ইলেকট্রিক লাইট দেখেননি সাবিত্রী। ছোট থেকেই তার খুব ইচ্ছে ছিল কলকাতা দেখার।

তবে কলকাতায় পৌঁছে ভয়ানক জীবন সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয় সাবিত্রীকে। অভিনেত্রী হিসেবে পর্দায় অনেকের স্ত্রীর চরিত্রে পরবর্তীতে অভিনয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনে কিন্তু তিনি কখনোই আর বিয়ে করেননি। তবে কেরিয়ার মধ্য গগনে থাকার সময় উত্তম কুমারের সঙ্গে তার বিয়ের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি দুজনে এক সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে সাবিত্রী দেবী জানিয়েছিলেন এই সমস্ত কিছুই ছিল সম্পূর্ণরূপে মিথ্যে। কুমিল্লার মেয়ে সাবিত্রী ছিলেন দশ ভাইবোনের মধ্যে সবথেকে ছোট। দেশভাগের সময় নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি কলকাতায় উপস্থিত হয়েছিলেন। সংসারের দায়িত্বভার বহন করার উদ্দেশ্যে অভিনয় করা বেছে নেন তিনি। প্রথম ছবিতেই উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের সহযাত্রী চলচ্চিত্র ছিল সাবিত্রী দেবীর প্রথম ছবি। এরপরেও মহানায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে অনেক ছবিতে দেখা গিয়েছে তাকে।

জনপ্রিয় এক চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে পরবর্তীতে একসময় সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, “উত্তম কুমারের সঙ্গে আমার খানিকটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমার প্রতি মহানায়ক ছিলেন পজিটিভ। অনেকেই বলেন আমি মিথ্যে বলছি। তাই এটা নিয়ে আমি কখনোই কিছু বলিনি। তবে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে যা না সত্যি ছিল তার থেকেও বেশি ছিল রটনা। শোনা গিয়েছিল যে মহানায়ক উত্তম কুমারকে বিয়ে করে আমি বালিগঞ্জে বাড়ি ভাড়া করে রয়েছি। এসব কিন্তু কিছুই হয়নি। বরং এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরেই আমার জীবনে আরও ট্রাজেডি নেমে এসেছিল”।

এখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী সঙ্গে আরো সংযোজন করে বলেন, “আমার যে বিয়ের সম্বন্ধ আসেনি এমনটা কিন্তু নয়। সেই সময় অনেক সম্বন্ধ এসেছিল। তবে উত্তম কুমার সেই সমস্ত সম্বন্ধ ভেঙ্গে দিয়ে আসতেন। ভালোবাসা এক জিনিস। আমি কখনোই চাইনি মহানায়ক আমার জন্য তার সংসার ছেড়ে চলে আসুক। আমার কপালে যদি বিবাহিত পুরুষ জোটে আমি কি করবো ভালোবাসবো না? তবে আমি কখনোই কারোর ঘর ভাঙতে রাজি নই।

মহানায়ক কে পাইনি বলে যে বিয়ে করিনি এমনটা নয়। বন্ধু অনেক ছিল। তবে ওই সবাই কমবেশি বিবাহিত। আর আমি কারো ঘর ভাঙতে চাইনি”। অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় কে আপনাদের কেমন লাগে তা অবশ্যই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে ভুলবেন না। প্রতিবেদনটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট করে দেওয়ার অনুরোধ রইলো।

Back to top button