খুব অল্প ওজনের মধ্যে রেগুলার ইউজের সোনার কানের দুলের আধুনিক ডিজাইনের ১২টি দুর্দান্ত কালেকশন দেখে নিন!

নিজস্ব প্রতিবেদন :- ‌সোনা এমন একটি জিনিস যা মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে কিন্তু সকলেই অত্যন্ত পছন্দ করেন। তবে দিন প্রতিদিন যেভাবে হলুদ ধাতুর দামের বৃদ্ধি হয়ে চলেছে তাতে কিন্তু আর সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনভাবেই সোনার গয়না সহজে বানানো বা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। করোনা আবহে এই দাম আচমকাই ৫৬ হাজারের ঘরে ঢুকে গিয়েছিল যা এখনো পর্যন্ত রেকর্ড বৃদ্ধি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তবে সামনেই রয়েছে দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে ধনতেরাস আর দীপাবলীর মতন উৎসব। এছাড়াও দীপাবলি পেরিয়ে গেলেই ধীরে ধীরে শুরু হয়ে যাবে বিয়ের সিজন।

এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নজর রেখে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই নিম্নমুখী হয়েছে সোনার দাম। তাই এই সময় আপনারা চাইলে কিন্তু নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সোনার গয়না বানিয়ে নিতে পারেন। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য সোনার গয়না গুলির মধ্যে অন্যতম হলো কানের দুল। তাই এই সময় যারা সোনার গয়না বানাতে চান তাদের বলবো যদি খুব বেশি অর্থ খরচ না করার থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু হালকা ওজনের মধ্যে আপনারা বিভিন্ন ডিজাইনের সোনার কানের দুল তৈরি করে নিতে পারেন। চলুন আর দেরি না করে হালকা ওজনের মধ্যে সোনার কানের এর কয়েকটি বিশেষ ডিজাইন জেনে নেওয়া যাক।

১) আজকের এই প্রতিবেদনের শুরুতেই যে সোনার কানেরের ডিজাইনটি আপনাদের দেখাতে চলেছি সেটা উপরের অংশে খুব সুন্দর ত্রিভুজের মতন করা রয়েছে এবং নিচের দিকে রয়েছে বক্সের মতন একটা ডিজাইন। এই কানেরটি তৈরি করতে গেলে আপনাদের মোটামুটি খরচ পড়বে ৫৮৫০ টাকা। সুন্দর আর ইউনিক একটা ডিজাইন। রেগুলার ইউজের জন্য সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।

২) এবার যে ডিজাইনটি আপনারা দেখছেন সেটার মধ্যে খুব সুন্দর গাছের পাতার মতন কাজ করা রয়েছে যা এটাকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিবাহিত থেকে শুরু করে অবিবাহিত সকল মেয়েরাই কিন্তু এই কানের দুলটি ট্রাই করে দেখতে পারেন। অত্যন্ত হালকা ওজনের এই সোনার কানের দুলটির দাম পড়বে মোটামুটি ৫৬০০ টাকা।

৩) এবার যে ডিজাইনটি আপনারা দেখতে চলেছেন সেটার উপরে হার্টশেপে নকশা করা রয়েছে এবং নিচের অংশে খুব সুন্দর দুটো স্টোনের ডিজাইন রয়েছে। এই গানের দুটি তৈরি করতে গেলে আপনাদের মোটামুটি ৫৫০০ টাকা মতো খরচ করতে হবে।

৪) যারা অফিস কাছারি বা রেগুলার ইউজের জন্য একটু সুন্দর ডিজাইনের কানের দুল পর্যন্ত তারা অবশ্যই এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। অনেকটা ঘটের মতন নকশা করা এই কানের টি আপনারা মোটামুটি ৫,০০০ টাকার মধ্যে বানিয়ে নিতে পারবেন।

৫) যারা একটু ঝুলের মধ্যে কানেরের ডিজাইন নিতে চাইছেন তারা অবশ্যই এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। খুব সুন্দর একটা লম্বাটে ধরনের ডিজাইন। খরচ পড়বে মোটামুটি ৪,৯৫০ টাকা।

৬) যারা খুব একটা লম্বাটে বা ঝুল জাতীয় কানের পছন্দ করেন না তাদের জন্য এই বিশেষ ডিজাইন। একেবারে ছোট্ট টপের মতন এই কানেরটি তৈরি করা হয়েছে। একটা ফ্লাওয়ারশেপের ডিজাইন এখানে করা। দাম মোটামুটি ৩৬০০ টাকা।

৭) টপের মধ্যেই যারা একটু ডিজাইনার কানের ট্রাই করতে চাইছেন তারা অবশ্যই এই কালেকশন টা দেখুন। সুন্দর ময়ূরের ডিজাইন এটাতে করা রয়েছে। তবে এটার কিন্তু বেশ ভালই দাম পড়বে মোটামুটি ১৮ হাজার টাকা।

৮) এবার যে কালেকশনটি আপনারা দেখতে চলেছেন সেটার মধ্যে খুব সুন্দর সোনার কাজ করা রয়েছে। এই কানের দেখতে অনেকটা তারা অথবা ফুলের মতন। নিচের অংশ থেকে একটা ঝুলের মতন ডিজাইন রয়েছে। এগুলিকে কিন্তু সুই ধাগা কানেরও বলা হয়ে থাকে। এই কানের দুলটির দাম পড়বে ১৩ হাজার টাকা।

৯) যারা একটু সিম্পল এর মধ্যে কানেরের ডিজাইন খুঁজছেন তারা অবশ্যই এটা ট্রাই করতে পারেন। খুব সুন্দর বিভিন্ন ধরনের নকশা এর মধ্যে করা রয়েছে। ছোটখাটো অকেশন থেকে শুরু করে রেগুলার নিউজের জন্যও পড়তে পারবেন। দাম পড়বে ১২ হাজার টাকা।

১০) এবার যে কানের দুলটি আপনারা দেখছেন সেটা অনেকটা প্রজাপতির মতন দেখতে। বা এটাকে গাছের পাতার সঙ্গেও তুলনা করা যেতে পারে। খুবই ইউনিক এই ডিজাইনটি তৈরি করতে গেলে আপনাদের খরচ পড়বে মোটামুটি ৯০০০ টাকা।

১১) এবার যে কালেকশনটি আপনারা দেখছেন সেটাতে অনেকটা কানের মতন ডিজাইন করা রয়েছে। উপরে ধানের ছড়ার মতন ঝিলে কাটা ডিজাইন। এই ডিজাইনটি তৈরি করতে গেলে আপনাদের মোটামুটি খরচ পড়বে ৫৫০০ টাকা।

১২) এবার যে কালেকশনটি আপনারা দেখছেন সেটা খুব সুন্দর ত্রিভুজের মতন করে ডিজাইন করা হয়েছে। যারা অবিবাহিতা মহিলা রয়েছেন তারা অবশ্যই এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। মোটামুটি ৪০০০ টাকার মধ্যে আপনারা এটা তৈরি করে নিতে পারবেন।

আজকে আমরা যে সমস্ত ডিজাইনগুলি সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিলাম সেগুলি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কিন্তু একটি লাইক, কমেন্ট করে দিতে ভুলবেন না। পাশাপাশি পাঠকদের সুবিধার্থে আমরা বলবো যে হলমার্ক ছাড়া সোনার গয়না কেনা থেকে বিরত থাকুন। খাঁটি সোনা চেনার অন্যতম উপায় হল সোনার গায়ে থাকা হলমার্কের নম্বর যাচাই করে সেই সোনা’কে চেনা। BIS এবং BIS অনুমোদিত ল্যাবরেটরি ছাড়া সোনার গায়ে হলমার্ক বসাতে পারে না কেউই।

তাই একমাত্র BIS অনুমোদিত হলমার্ক দেখেই তবে সোনা কেনা উচিত। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে খাঁটি সোনার নাম করে বিক্রি হয় ভুয়ো কিংবা নকল সোনা। অনেকসময় সোনার পরিবর্তে হাতে আসে ইমিটেশনও। সুতরাং কোনভাবেই কিন্তু আপনারা রিক্স নেবেন না। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় জেনে রাখুন আন্তর্জাতিক দরের উপর ভিত্তি করে কিন্তু দৈনন্দিন সোনার দাম আলাদা হয়ে থাকে। সুতরাং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাম কিন্তু প্রতিদিনের হিসেবে অনেকটাই আলাদা হতে পারে।

Back to top button