বড়ো দুঃসংবাদ! দীপাবলিতে বাংলায় ধেয়ে আসছে ভয়াবহ সাইক্লোন সিত্রাং, মিলল বড়ো আপডেট

নিজস্ব প্রতিবেদন: দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই সুপার সাইক্লোন আছড়ে করার কথা জানান দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু গোটা পুজোটাই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের মধ্যে দিয়ে পার হয়ে গিয়েছে। খুব একটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি বঙ্গবাসীকে। তবে এবারের সম্ভবত কালীপুজোর আগেই ঘনিয়ে আসতে চলেছে বিপদ। সম্প্রতি দেশের আবহাওয়াবিদদের একাংশ এমনটাই দাবি করেছেন বলে খবর মিলেছে। কিন্তু এই আশঙ্কার কারণ কি? তথ্য অনুসারে ১৭ থেকে ১৮ই অক্টোবর নাগাদ আন্দামান সাগরের একটি নিম্নচাপ দানা বাধার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

সম্ভবত এই নিম্নচাপই সুপার সাইক্লোনের রূপ ধারণ করতে পারে এমনটা মনে করা হচ্ছে। এই খবর সামনে আসা মাত্রই মানুষের মধ্যে রীতিমতো উদ্বেগ বিস্তার করেছে। এবার অনেকেই আশঙ্কা করতে শুরু করে দিয়েছেন দুর্গা পুজো তো ভালই ভালই পেরিয়ে গেল! তবে এবার কি মাটি হয়ে যেতে চলেছে দীপাবলি আর কালীপুজো!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দামান সাগরে ঘনীভূত হওয়া নিম্নচাপটি যদি সুপার সাইক্লোনের রূপ ধারণ করে সেক্ষেত্রে এটি ভারতের পূর্ব উপকূল বরাবর এগিয়ে আসবে। সম্ভবত উত্তর অন্ধপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় এই ঝড় ভূমিস্পর্শ করতে পারে। ভূমিস্পর্শ করার সময় এই ঝড়ের গতি থাকতে পারে মোটামুটি ২৫০ কিলোমিটার বা তার আশেপাশে অর্থাৎ এটাকে সহজেই সুপার সাইক্লোনের সঙ্গে আপনারা তুলনা করতে পারেন।। উল্লেখ্য এই নিম্নচাপ টি যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় সেক্ষেত্রে এর নাম হবে ‘সিত্রাং’।

ইতিমধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড়ের খবরে বাংলার প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড়ের
গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা এখনো এই সম্ভব হচ্ছে না তাই অনেকেই মনে করছেন যে যদি আমফানের মতন কোনো ঘূর্ণিঝড় আবারো দেখা দেয় সেক্ষেত্রে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বা কতটা সমস্যার মুখোমুখি হবেন মানুষ! ১৭/১৮ অক্টোবর তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ সম্ভবত ১৯ তারিখের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। এটির কেন্দ্রে বাতাসের গতি হতে পারে ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার।

গতি সঞ্চয় করার পর 24 বা 25 তারিখ নাগাদ এটা স্থল ভুমিতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকছে। ঘূর্ণিঝড় যেখানেই ভূমি স্পর্শ করুক না কেন উপকূলীয় অঞ্চলে কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দাবি অনুসারে এই ঝড় যদি বাংলার দিকে ধেয়ে আসে সেক্ষেত্রে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।

এখনো পর্যন্ত ২০০৯ সালের আয়লা ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি মানুষ ভুলতে পারেননি। পরবর্তী সময় বুলবুল আর আমফানেও বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন থেকেছে আমাদের বাংলা। অক্টোবর আর নভেম্বর মাস বরাবর থেকেই ঘূর্ণিঝড় প্রবণ মাস হিসেবে চিহ্নিত। এর আগেও এই মাসগুলিতে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন থেকেছে আমাদের বাংলা। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে অনেকের মাথাতেই চিন্তার মেঘ দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন দিকে পরিস্থিতি যায়, এখন সেটাই প্রধান দেখার বিষয়।

Back to top button